সিসি নিউজ: রাজধানীর মোহাম্মাদপুর আবাসিক এলাকার নবোদয় হাউজিংয়ের একটি বাসায় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের পর এবার অসংখ্য বোমা উদ্ধার করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট সদস্যরা।
শনিবার দুপুরে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিটের প্রধান ও গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার সানোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর ওই বাসাটিতে বিস্ফোরক ও বোমা রয়েছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ফ্ল্যাটে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির মালিক আবদুল মালেককে আটক করা হয়েছে। এদিকে একের পর এক কক্ষে প্রবেশ করে দেখা যায়, দরজাগুলোতে ‘ডেঞ্জার’ লেখা রয়েছে। এ সময় একটি কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক পাওয়া যায়। রাতের বেলায় ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অভিযান স্থগিত করা হয়। পরে বাসাটি সিলগালা করে পুলিশ পাহারায় রাত পার করা হয়।
তিনি আরো জানান, আজ শনিবার সকাল থেকে পুনরায় ওই বাসায় অভিযান শুরু হয়ে চলে দুপুর পর্যন্ত। অভিযানে প্রতিটি কক্ষেই বোমা পাওয়া যায়। বোমাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেগুলো ঘটনাস্থলেই নিষ্ক্রিয় করা হচ্ছে। দুপুর ২টা পর্যন্ত মাত্র একটি কক্ষের বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়। এখনো দুটি কক্ষে বোমা রয়েছে। সবগুলো বোমা নিষ্ক্রিয় করার পর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা হবে।
অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নবোদয় হাউজিংয়ের ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলার ওই বাসাটির পুরোটাতেই বোমা বানানো হতো। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বোমা তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয় গত রাতে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায় বাড্ডায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দুই জঙ্গিকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় একজন স্বীকার করেন, মোহাম্মদপুরের ওই বাসাটিতে বোমা তৈরি করা হচ্ছে। এরপর রাত ১০টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়।’
কিছুদিন আগে রাজধানীর শাহ আলী থানাধীন একটি বাসায় জঙ্গি আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ বোমা ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশের বোমা বিশেষজ্ঞ এই দলটি। সেখানেও বোমাগুলো উদ্ধারের পর নিষ্ক্রিয় করা হয়। ওই ঘটনায় চারজনকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গোয়েন্দারা মনে করছেন, জঙ্গিরা একই কায়দায় রাজধানীতে এরকম বাসা ভাড়া করে বোমা তৈরি করে আসছে।