• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৩ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

পুলিশি নির্যাতনে হাজতির মৃত্যু

মৃত্যুঢাকা: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পুলিশি নির্যাতনে আব্দুল আলিম রানা নামে এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনদের অভিযোগ।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রানার মৃত্যু হয়। বর্তমানে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

তবে কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, কারাগারে আসার আগে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছিলেন রানা। শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি স্ট্রোক করেছিলেন। এরপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে পুলিশের দাবি, রানা একজন চিহ্নিত ছিনতাইকারী। তার কাছে সবসময় অবৈধ অস্ত্র থাকত। সেই অস্ত্র দিয়ে ডাকাতি ও ছিনতাই করার সময় জনগণ হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দেয়। এরপর তাকে ধরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। তাকে নির্যাতনের প্রশ্নই ওঠে না।

রানার বাবা ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করেন, ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে পুলিশ বন্ধুর মাধ্যমে ডেকে মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প এলাকা থেকে রানাকে আটক করে। এরপর থানায় নিয়ে প্রচণ্ড মারধর করে। ২১ ফেব্রুয়ারি অস্ত্র মামলায় তাকে আদালতে পাঠায় পুলিশ। মারধর করায় তার মৃত্যু হয়েছে। তার কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। রানা পুরাতন বিল্ডিং ভাঙার ঠিকাদারির কাজ করতেন। এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন রানা। মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের সঙ্গে যোগসাজস করে তাকে ধরিয়ে দিয়েছে।

মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দিন মীর বলেন, গত কিছু দিন আগে হুমায়ুন রোডে কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি ডাকাতি ও ছিনতাই করতে আসে। ওই সময় সাধারণ জনগণ কয়েকজনকে ধরে গণপিটুনি দেয়। এ সময় অন্যরা পালিয়ে গেলেও রানা মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণে পালাতে পারেনি। পরে তাকে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয় জনতা।

থানায় রানার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ও ডাকাতির অভিযোগে দুটি মামলা হয়। এরপর আদালতের মাধ্যমে রানাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ডের একদিন যেতেই তিনি জানান, তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস ও মাথায় আঘাত আছে। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রিমান্ড বাকি থাকতেই আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

পরিবারের অভিযোগ সম্পর্কে জানালে তিনি বলেন, রানাকে নির্যাতন করার কোনো কারণ নেই। কারণ তাকে যে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা, তার ভারই সহ্য করতে পারছিল না। পুলিশই তাকে চিকিৎসা করিয়েছে। তিনি এলাকায় একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। হুমায়ুন রোডে ডাকাতির সময় তিনি যে পিস্তল থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছেন, সেই পিস্তলটিও জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির জানান, ৫/৬ দিন আগে রানা হাজতি হিসেবে কারাগারে এসেছেন। শারীরিকভাবে তিনি অনেক দুর্বল ছিলেন। শনিবার দুপুরে স্ট্রোক করে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ইসিজি করার সময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার গ্রামের বাড়ি মাদারিপুর জেলার শিবচরে। ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ী এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তিনি।

উৎস: আরটিএনএন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ