সিসি সাহিত্য ডেস্ক: প্রথমবারের মতো এবার বাংলা একাডেমির চার দেয়ালের পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একাংশে আয়োজিত হচ্ছে অমর একুশে বইমেলার। মেলা শুরুর আগেই প্রথমবারের মতো বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণা করেছে একাডেমি কর্তৃপক্ষ। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ১১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এ পুরস্কার প্রদান করা হবে। বৃহস্পতিবার বিকালে একাডেমি মিলনায়তনে মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান এ পুরস্কার ঘোষণা করেন। এদিকে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়ে গেল স্টল বরাদ্দের লটারি। সৌভাগ্যবান বিজয়ীরা লটারি শেষ হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন নিজ নিজ স্টল সাজানোর কাজে। একাডেমি চত্বরে দেখা যায়, অবকাঠামো নির্মাণ প্রায় শেষ। সবাই ব্যস্ত স্টল সাজাতে। বাকি একদিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানকার অবকাঠামো নির্মাণ শেষ। ব্যস্ত স্টল সাজাতে। উদ্যানে মেলার জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে একাডেমির বিপরীতে মুক্ত মঞ্চ ও কালী মন্দিরের মাঝামাঝি খালি জায়গায়। এবার মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩০৮টি। এর মধ্যে প্রকাশনা সংস্থা রয়েছে ২৬২টি আর প্রাতিষ্ঠানিক স্টল রয়েছে ৪৬টি। তবে কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
মেলা সূত্রে জানা গেছে, প্রকাশনা সংস্থাগুলোর মধ্যে এক ইউনিটের স্টল বরাদ্দ পেয়েছে ১৩১টি, দুই ইউনিটের স্টল পেয়েছে ৮৩টি এবং তিন ইউনিটের স্টল ৪৮টি। আর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্থাগুলোর মধ্যে এক ইউনিটের স্টল বরাদ্দ পেয়েছে ১২টি, দুই ইউনিটের স্টল পেয়েছে ১৭টি এবং তিন ইউনিটের স্টল ছয়টি। এবারের মেলায় প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে চার ইউনিটের স্টল। ১১টি প্রকাশনা সংস্থাকে চার ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া একাডেমি চত্বরে ৪৩টি লিটল ম্যাগাজিন স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
একাডেমি চত্বরে আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়াও বাংলা একাডেমি, এশিয়াটিক সোসাইটি, শিশু একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, নজরুল ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় জাদুঘরসহ সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল থাকবে। আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্টল থাকবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। বটতলার নজরুল মঞ্চে হবে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন।
বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব শাহিদা খাতুন জানান, মেলার পরিসর বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের। আর নিরাপত্তার দিক থেকে পরিসর বাড়ানো ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এবার বাংলা একাডেমি সেই চ্যালেঞ্জটি নিয়েছে। নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে প্রথমবারের মতো বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার তুলে দেন বিজয়ীদের হাতে। পুরস্কার হিসেবে বিজয়ীরা ক্রেস্ট, সনদপত্র ও এক লাখ টাকা। এ বছর বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেলেন কবিতায় হেলাল হাফিজ, কথাসাহিত্যে পূরবী বসু, প্রবন্ধে মফিদুল হক, গবেষণায় জামিল চৌধুরী ও প্রভাংশু ত্রিপুরা, অনুবাদে কায়সার হক, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে হারুন হাবিব, আত্মজীবনী/স্মৃতিকথা/ভ্রমণ কাহিনীতে মাহফুজুর রহমান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশে শহিদুল ইসলাম, শিশুসাহিত্যে কাইজার চৌধুরী ও আসলাম সানী। ১০টি শ্রেণীতে এ পুরস্কার দেয়ার কথা থাকলেও এবার নাটকে কেউ পুরস্কার পাননি। বিগত বছরগুলোতে এ পুরস্কার মেলার শেষ দিকে দেয়া হতো।
বাংলা একাডেমির মহা-পরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, প্রতি বছর বইমেলার শেষের দিকে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেয়ার প্রচলন ছিল। কিন্তু এবার মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার দেয়া হলো। যাতে পুরস্কার বিজয়ী লেখকরা মাসব্যাপী আলোচিত হতে পারে ও তাদের বই ভালো বিক্রি হতে পারে।