
রইজ উদ্দিন রকি: নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলা শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, শীতকালীন সবজি চাষিরা অধিক মুনাফার আশায় চলতি শীত মৌসুমে ব্যাপক হারে নানা রকমের সবজির চাষ করলেও দাম না থাকায় ওই সব সবজি এখন চাষিদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলন ভালো হলেও সবজি বর্তমানে মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। চাষিরা বলছেন, উৎপাদনের শুরুতে রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকায় আগাম উৎপাদিত সবজি সময় মতো বিক্রি না হওয়ায় স্থানীয় বাজারে সয়লাব হয়েছে। অপরদিকে বেশি লাভের আশায় বাড়ির আনাচেকানাচে ব্যাপক হারে চাষকৃত সবজিতে ভরে গেছে সৈয়দপুর উপজেলার ৫ টি ইউনিয়ন। চলতি মৌসুমে নানা ধরনের সবজি যেমন- করলা, গাজর, ধনিয়াপাতা, শসা, লাউ, লালশাক, আলু, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, চাষ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে সবজির ভালো দাম থাকলেও বর্তমানে সবজির দাম নেই বললেই চলে। উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের তেলীপাড়া গ্রামের চাষি সোহরাফ, বড়দাহ গ্রামের চাষি তৈয়ব আলী, মাঝাপাড়া গ্রামের বিশ্বনাথসহ অনেকে জানান, প্রতি মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে সবজি চাষ হয় আমাদের এই ইউনিয়নে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মৌসুমের শুরুতে সবজির দাম পেলেও ভরা মৌসুমে সবজির দাম কমে যায়। এতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকার সবজি নষ্ট হয়ে যায়। মৌসুমে শুধু আলু ছারা আর কোনো সবজি সংরক্ষণ করার উপায় থাকে না ফলে চাষিদের উৎপাদিত সবজি নষ্ট হয়ে যায়। ওই সব সবজি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে চাষির উন্নায়নসহ কৃষি অর্থনীতির উন্নায়ন হতো। চাষিরা কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করেছেন, শীতকালীন সবজি রফতানি ও সংরক্ষণে প্রযোজনিয় ব্যবস্থা করা হোক।