নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের লক্ষ্য পূরণের ‘ভাগীদার’ মন্তব্য করেছে প্রভাবশালী বৃটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্ট।
সাময়িকীটি বলছে, বিরোধী দলের ওপর সরকারি দলের নিপীড়ন এবং আদালত, রাজপথ ও সংসদে বিরোধী দলের কোণঠাসা অবস্থায় প্রতীয়মান হচ্ছে যে দেশটি কিছুদিন ‘শান্ত’ থাকতে পারে।
শনিবারের প্রিন্ট সংস্করণে প্রকাশিত ‘ক্রাইম অ্যান্ড পলিটিক্স ইন বাংলাদেশ, বাং বাং ক্লাব’ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। প্রতিবেদনেটি ইতোমধ্যেই অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ভারতের লক্ষ্যের ভাগীদার শেখ হাসিনা। নিজ দেশে বিরোধী দলকে চ্যাপ্টা করে ফেলতে তিনি সব কিছুই করছেন। এতে গণতান্ত্রিক সরকারের ভবিষ্যৎ ক্ষীণ। কিন্তু বিরোধী দলের অবস্থা হলো- আদালত, রাজপথ এবং সংসদে কোণঠাসা। এর ফলে আরো কিছুদিন (দেশটি) শান্ত থাকতে পারে।’
মূলত আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার রায় নিয়ে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অস্ত্র পৌছানোর ১০ বছর এগুলো তাদের ভিকটিমদের হদিস পেয়েছে। চীনের তৈরি এসব অস্ত্র হয়তো পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের সহায়তায় ভারতে গোলযোগের জন্য পাঠানো হচ্ছিল।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক বছর ধরে বাংলাদেশে এই মামলাটির বিচার যারা এর সাথে জড়িত ছিলেন তারাও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার এর বিচারে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই এই অপরাধটিকে গুরুত্বসহকারে নেয়। ৩০ জানুয়ারি আদালত ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
উচ্চ আদালত যদি এই রায় বহাল রাখে তবে তার রাজনৈতিক ও আইনি গুরুত্ব বিশাল। এতে তারেক রহমান বিপদে পড়তে পারেন। শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই বলেছেন যে, তার সরকার প্রমাণ করবে যে তারেক রহমান এ ব্যাপারে সবকিছু জানতেন।
এই মামলায় জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীকেও মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধাপরাধ মামলাতেও তার মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে তার দুইবার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী এই রায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। দলটির রাজপথে সহিংসতার পরিচিতি রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তার শক্তি নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে। জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী হয় বন্দি নয়তো গুলিতে মারা গেছেন।
বিএনপিও একেবারেই ভেঙে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। দলটি তার সমর্থকদের শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রাজপথে নামাতে পারছে না- হোক তা আদালতের রায় অথবা নির্বাচনের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্রমবর্ধমান খুশী মনে হচ্ছে। বিএনপি ও জামায়াতের বর্জনের মধ্যে অনুষ্ঠিত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তার দল আওয়ামী লীগ জয়ী হয়েছে। নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে যেসব দাতা এবং পর্যবেক্ষকরা শঙ্কিত ছিলেন তারা এখন মনে করছেন যে, শেখ হাসিনা ৫ বছরই ক্ষমতায় থাকবেন।
বৃটেন ও আমেরিকার সরকারি সাহায্য সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত জরিপে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনে আওয়ামী লীগই জয়ী হতো। এতে সরকার আরো উৎসাহিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের বৃহৎ প্রতিবেশী ভারত এসব ঘটনায় খুশি। দেশটি শেখ হাসিনা এবং স্পষ্টভাবেই ধর্মনিরপেক্ষ আওয়ামী লীগের বিশেষভাবে ঘনিষ্ঠ। ভারত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সমর্থন দিয়েছে।
নয়াদিল্লির নীতিনির্ধারকরা ভীষণভাবে চাচ্ছেন, বাংলাদেশ যেন আগের মতো ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঘাঁটিতে পরিণত না হয়। পাকিস্তানের মত বাংলাদেশে যাতে ইসলামী চরমপন্থার বিকাশ না হয় তা চায় ভারত। দেশটি চায় কাজের সন্ধানে বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে প্রবেশ সীমিত রাখতে।