
খলিলুর রহমান, নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় আমন ও বোরো ধান চাষের মধ্যবর্তী সময়ে সূর্যমুখী চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ৩ ইউনিয়নের কৃষকরা। জেলায় এবছর প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নাগেশ্বরীর ফকিরেরহাট, দিগলহাইল্যা ও সিপাইটারী এলাকায় প্রায় ১৯৬ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। সূর্যমুখী চাষে বিঘা প্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ করে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার ফসল বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন চাষিরা। আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যেই সূর্যমুখী কাটা-মাড়াই শুরু হবে। সূর্যমুখী উঠানোর পরপরই শক্তি হাইব্রিড জাতের ধান লাগালে ধানের ফলনও ভালো আশা তাদের। কৃষকরা জানান, জমির বহুজাতিক ব্যবহারের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর উদ্দেশেই তারা সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছে। এ চাষে আমন ও বোরো ধান আবাদে কোন সমস্যা হয় না। দুই আবাদের মধ্যবর্তী সময়ে বিঘাপ্রতি কৃষকের ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা অতিরিক্ত আয় হবে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে খাদ্য নিরাপত্তার কর্মসূচির ভিত্তিতে কৃষকদের আয় বাড়াতে বেসরকারি এনজিও ব্র্যাক সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে। কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ফকিরের হাট গ্রামের চাষি আকরবর আলী জানান, আমন ও বোরো আবাদের মধ্যবর্তী জমি পড়ে থাকা সময়টাতে তিনি প্রায় ৩ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। এতে তার খরচ বাদ দিয়ে ২০ হাজার টাকার বেশি আয় হবে বলে জানান তিনি। এ গ্রামের আরেক চাষি সিরাজুল ইসলাম বলেন আমি ২ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। ফসল অনেক ভালো হয়েছে। পার্শ্ববর্তী গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন জানান, এখানে সূর্যমুখীর আবাদের কথা শুনে দেখতে এসেছি। কি ভাবে চাষ করতে হয় তা শুনলাম। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, বিঘাপ্রতি কৃষকরা ৪ থেকে ৫ মণ করে ফসল পাবেন। পাশাপাশি ব্র্যাক উপজেলা সিনিয়র ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা জানান, ব্র্যাক কর্মীরা সূর্যমুখী চাষে কৃষদের বিভিন্ন পরামর্শ ও মাঠ পর্যবেক্ষণ করছেন। সূর্যমুখী তোলার পর হাইব্রিড জাতের ধান জমিতে চাষ করবে। ইতোমধ্যে তার বীজও কৃষকদের কাঝে সরবরাহ করা হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রদীপ কুমার মণ্ডল বলেন, আমি সূর্যমুখী ক্ষেত পরিদর্শন করেছি। এটি দেশব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তিতে ব্র্যাকের একটি উন্নয়নমূলক উদ্যোগ।