ঢাকা: ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু বাংলাদেশে সবচেয়ে বৃহৎ ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীকে ইবলিসের চেলা বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, হেফাজত ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী হুজর নয়। ওটা একটা বদমাইস। ওদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে হবে।
বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘কুড়িগ্রাম রুরাল ডেভলপমেন্ট সেল’ আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ডিলু বলেন, তারা নারীদের অগ্রযাত্রার বিরোধিতা করে। আবার নির্বাচনের সময় গণতন্ত্রকে ধ্বংস, দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যহত করার জন্য এই নারীদের বাড়িতে বাড়িতে পাঠিয়ে ভোটের কাজে লাগায়।
তিনি বলেন, গ্রামের সরল মনা নারীদের মধ্যে তালিমবাজরা তালিমের নামে এসে জনে জনে টাকা দিয়েছে। বোরখা পরে একেবারে মুখ চোখ ঢেকে এসে তারা এ কাজ করেছে।
বর্তমান সমাজ পুরুষ শাসিত নয় দাবি করে মন্ত্রী বলেন, অনেকেই বলে বর্তমান সমাজ পুরুষ শাসিত। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতাসহ সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা নারী। তাহলে পুরুষ শাষিত সমাজ হল কি ভাবে?
তিনি বলেন, ‘আমি বলব, আসলে নারী বন্ধাব আইন করলেই হবে না। সকল ক্ষেত্রে নারী জাগরণ ঘটাতে হবে। গ্রামের নারীদের মাঝে গিয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।’
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মঞ্চ থেকে একজন শফী হুজুরের সম্পর্কে বলতে বললে মন্ত্রী বলেন, ‘এদের হুজুর বলেন কেন? এরা হলো বদমাইস, মানবতাবিরোধী, বাংলার মাটি থেকে এদের তাড়িয়ে দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই হেফাজতরা মেয়েদের নাক মুখ ঢেকে ঘরে বাসিয়ে রাখে। এরা বলে বাবা ও স্বামীর নাম লিখতে পারলেই হয়েছে। এরপর আর পড়ালেখা করার প্রয়োজন নেই।’
এ সময় মন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই যে মেয়েরা বসে আছে। শাড়িতে তাদের কত শালীন দেখা যাচ্ছে। অথচ এই ইবলিসরা নারীদের বোরখার মধ্যে ঢুকিয়ে একেবারে অদ্ভুত করে ফেলে। এই হুজুররা অন্যান্য দেশের নারীদের আরও ভয়াবহ অবস্থা করেছে।’
কিছুদিন আগে জামায়াতের সহিংসতার বিষেয়ে তিনি বলেন, ‘ইবলিসের চেলা জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩০ লাখ মা-বোনের ইজ্জত নিয়েছে। কিছুদিন আগে দেশে তাণ্ডব চালিয়ে ৩৮ জনকে পুড়িয়ে মেরেছে। তার মধ্যে ৮ জন জামায়াতের বাকিদের মধ্যে ২ জন বিএনপির ও ২ জন অন্যান্য। তাহলে মানুষ পুড়িয়ে কি করল এই ইবলিসরা? নিজেদেরই তো মারল।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার নারী উন্নয়নে যতটা ভূমিকা রেখেছে নারী সমাজ সরকারকে ততটা দিতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘আজকে আপনারা এখানে বসে নারী অধিকারের কথা বলছেন। অথচ গ্রামের নারীরা এখনো বোরখা পড়ে মৌলবাদীদের ভোট দিচ্ছেন। আপনারা গ্রামে গিয়ে নারী জাগরণ সৃষ্টি করুন।’
নারায়ন বলেন, ‘নারীরা শুধু একটি ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখলে হবে না। সকল ক্ষেত্রে সমভাবে নারীদের ভূমিকা রাখতে হবে।’
সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক বিউটি রানী চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, এএলআরডি’র নির্বাহীর পরিচালক শামসুল হুদা প্রমুখ।