সিসি নিউজ: বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি অস্ত্র আমদানি করে চীন থেকে। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দেশে যা অস্ত্র আমদানি হয়েছে তার ৮২ শতাংশই এসেছে চীন থেকে।
সুইডেনের স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য উল্লেখ করে জানিয়েছে, “শুধু বাংলাদেশই নয়, এশিয়া মহাদেশের ওই অঞ্চলটিতেই অস্ত্র রফতানির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে চীন। ভারতীয় উপমহাদেশে পাকিস্তান সরকার যা অস্ত্র আমদানি করে তার ৫৪ শতাংশ যায় চীন থেকে।”
সুইডিশ প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে যে, বিশ্বের অন্তত ৩৫টি দেশে অস্ত্র রফতানি করে চীন। আর এই দেশুগুলোর মধ্যে চীনা অস্ত্রের দ্বিতীয় বৃহৎ ক্রেতা দেশ হলো বাংলাদেশ।
সংস্থাটি আরো জানায়, গত বছর বাংলাদেশ সরকার তাদের দেশের অস্ত্রভাণ্ডারে প্রথমবারের মতো ডুবোজাহাজ যোগ করার উদ্দেশ্যে চীন থেকে দুটি ডুবোজাহাজ ক্রয়সংক্রান্ত একটি চুক্তি করেছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আব্দুর রশীদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই চীনের অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, “বিমান বাহিনীর বেশকিছু বিমানসহ আমাদের সামরিক বাহিনীগুলোতে ব্যবহৃত অধিকাংশ অস্ত্রই কেনা হয়েছে চীনের কাছ থেকে।”
চীন থেকে বাংলাদেশের ক্রয়কৃত অস্ত্রের যে পরিসংখ্যান এসআইপিআরআই দেখিয়েছে তা সঠিক বলেও জানান তিনি।
কেন চীনের কাছ থেকেই বাংলাদেশ এত অস্ত্র কেনে- এমন এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি লাভজনক আর্থিক চুক্তি এবং অস্ত্রের স্বল্প মূল্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, “বিশ্ববাজার থেকে অস্ত্র কেনার মতো বড় বাজেট বাংলাদেশের নেই।”
চীনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েও বাংলাদেশ যেকোনো ধরনের অস্ত্র কিনতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে এই ঋণগুলো সহজ শর্তেই পাওয়া যায় জানিয়ে আর্মির একজন সাবেক কর্মকর্তা জানান, ২০১৩ সালে অস্ত্র কেনার জন্য বাংলাদেশ ও রাশিয়া এক বিলিয়ন ডলারের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল, যেখানে সুদের হার ছিল সাড়ে চার শতাংশ।
এদিকে, ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশের ডুবোজাহাজ কেনার মাধ্যমে এই অঞ্চলটি আরো সমৃদ্ধশালী হবে। দেশের জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল আরো সমৃদ্ধ করতে বাংলাদেশের প্রতি চীনের বেশ সহযোগিতামূলক মনোভাব রয়েছে বলেও জানান তিনি।
গত ১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য চীন থেকে দুটি ডুবোজাহাজ কেনা হবে এবং এই লক্ষ্যে একটি সাবমেরিন বেজ নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। ওই একই দিন আবু বকর ও আলী হায়দার নামের ক্রয়কৃত দুটি নতুন রণতরী চীন থেকে এসেছে এবং বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
আইএইচএস জেন-এর তথ্য অনুযায়ী ২০১২ সালে সাড়ে তিশ’ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কেনার পর চীনের দ্বিতীয় বৃহৎ অস্ত্র-ক্রেতায় পরিণত হয় বাংলাদেশ।
এসআইপিআরআই’র তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত চীন থেকে জাহাজ থেকে একাধিক ছোঁড়ার মিসাইল, ট্যাংক, ফাইটার প্লেনসহ বিভিন্ন অস্ত্র কিনেছে বাংলাদেশ। একই সময় ফ্রান্সের কাছ থেকে একাধিক হেলিকপ্টার, জার্মানি থেকে এমপি এয়ারক্রাফট, ইতালি থেকে হালকা হেলিকপ্টার এবং রাশিয়া থেকে এপিসি কিনেছে বাংলাদেশ।
এদিকে, গত পাঁচ বছরে অস্ত্র কেনার দিক থেকে সারা বিশ্বে এক নম্বর তালিকাভুক্ত দেশ ভারত। সুইডিশ গবেষণা সংস্থাটি জানায়, প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ চীন ও পাকিস্তানের চাইতেও তিন গুণ বেশি অস্ত্র কিনেছে ভারত।
সারা বিশ্বের মোট অস্ত্রবাণিজ্যের ১৪ শতাংশই হয় ভারত থেকে। তারা অস্ত্র কেনে মূলত রাশিয়ার কাছ থেকে। ভারতের মোট ক্রয়কৃত অস্ত্রের ৭৫ শতাংশই আসে রাশিয়া থেকে এবং বাকি অস্ত্রের মধ্যে সাত শতাংশ আমেরিকা ও ছয় শতাংশ ইসরায়েল থেকে আসে।
বিশ্বের সর্বোচ্চ সংখ্যক অস্ত্রের ক্রেতা দেশের তালিকায় আছে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবও।
এছাড়া, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বের সব চাইতে বড় অস্ত্রবিক্রেতা দেশ ছিল আমেরিকা। এরপরেই তালিকায় রয়েছে যথাক্রমে রাশিয়া, জার্মানি, চীন এবং ফ্রান্স। সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন। উৎসঃ
নতুন বার্তা