সিসি নিউজ: দশম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ৪৮ জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্চেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় একক প্রার্থীকে জয়ী ধরে রিটার্নিং কর্মকর্তারা বুধবার গেজেট প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফরহাদ হোসেন।
ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় প্রার্থীতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হচ্ছে।
মঙ্গলবার তিনি আরও জানান, নির্বাচনী আইনানুসারে গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে তাদের শপথের আয়োজন করতে হবে।
ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রার্থীরা আদালতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন না। কারণ আপিল বিভাগের আইনানুসারে বিল খেলাপিদের আদালতে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই বাতিল হওয়া দুই আসনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে আবার তফসিল ঘোষণা করতে হবে।
সংরক্ষিত নারী আসন আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশের সময় থেকে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে দুই আসনে পুনঃতফসিল দিতে হবে।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন দল ও জোট থেকে গত ৯ মার্চ্ ৫০ প্রার্থীর মনোনয়ন গ্রহণ করেছিল ইসি। এর মধ্যে গত ১১ মার্চ্ মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই শেষে ৪৮ জন প্রার্থীর মনোয়নপত্র বৈধ বলে জানান নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সাবিহা বেগম নাহার আর জাতীয় পার্টির খোরশেদ আরা হকের বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিসিএন) বিল খেলাপির কারণে মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা জেসমিন টুলী।
গত বুধবার এ দুই প্রার্থী রিটার্নিং কর্মকর্তার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেন। কিন্তু গত রোববার নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির এই দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদন খারিজ করে দেন।
উল্লেখ্য, সাবিহা নাহার বেগমের বকেয়া বিলের পরিমাণ ১১ হাজার ৮৩৫ টাকা। অন্যদিকে খোরশেদ আরা হকের বিরুদ্ধে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮৮ টাকা বিপিসিএলএর বিল খেলাপির অভিযোগ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবাররক জানান, তফসিল ঘোষণানুসারে এ আসনের প্রার্থীতা প্রত্যাহারের আজ শেষ দিন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন ছিল ১১ মার্চ্।
তিনি জানান, নির্বাচনী আইনানুসারে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে তাদের শপথগ্রহণের আয়োজন করতে হবে। এছাড়া আইন অনুসারে ৯ এপ্রিলের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনে ভোট করার বাধ্যবাধকতা থাকায় ইসির সিদ্ধান্ত অনুসারেই এ আসনের ভোট ৩ এপ্রিল।
সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে যাদের নাম ঘোষণা করা হবে তাদের মধ্য রয়েছেন আওয়ামী লীগের তারানা হালিম, ফজিলাতুন নেসা বাপ্পী, ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, আমিনা আহমেদ, পিনু খান, সানজিদা খানম, নীলুফার জাফরউল্যাহ, সেলিনা জাহান লিটা, সফুরা বেগম রুমী, হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, উম্মে কুলসুম স্মৃতি, বেগম আখতার জাহান, সেলিনা বেগম স্বপ্না, সেলিনা আখতার বানু, লায়লা আরজুমান বানু, শিরিন নাঈম পুনম, কামরুল লায়লা জলি, হেপী বড়াল, রিফাত আমিন, নাসিমা ফেরদৌসী, লুৎফুন্নেছা, মমতাজ বেগম, মনোয়ারা বেগম, মাহজাবিন খালেদ, ফাতেমা জোহরা রানী, দিলারা মাহবুব আসমা, ফাতেমা তুজ্জহুরা, সাবিনা আক্তার তুহিন, রহিমা আক্তার, হোসনে আরা বাবলী, কামরুন নাহার চৌধুরী লাভলী, রোখসানা ইয়াসমিন ছুটি, নাভানা আক্তার, আসমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, শামছুন নাহার বেগম, ওয়াসিফা আয়শা খান, জাহানারা বেগম সুরমা ও ফিরোজা বেগম চিনু, জাসদের লুৎফা তাহের, ওয়ার্কার্স পার্টির হাজেরা খাতুন। জাতীয় পার্টির নুর-ই হাসনা লিলি চৌধুরী, মাহজাবীন মোরশেদ, মেরিনা রহমান, শাহানারা বেগম ও রওশন আরা মান্নান।
এছাড়া স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের জোটে রয়েছেন কাজী রোজি, অ্যাড. নূর জাহান বেগম (মুক্তা) ও অ্যাড. উম্মে রাজিয়া কাজল।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালেন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৪৫টি নারী আসন সংরক্ষণ করা হয়। এর আগে সংসদে সংরক্ষিত আসন ছিল ৩০টি। নবম সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনীতে ৫০টি সংরক্ষিত আসন করা হয়।