• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন |

বিশ্ব রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশ

Lako Kontoঢাকা: রাজধানীর প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘লাখো’ কণ্ঠ এক সঙ্গে গাওয়া হলো ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’। সেই সুর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ল বাংলার পথে-প্রান্তরে। যে যেখানে ছিলেন, সেখানেই ঠাঁই দাঁড়িয়ে গেলেন। তিন লাখ কণ্ঠের সঙ্গে কণ্ঠ মেলালেন কোটি বাঙালি। এরই মধ্য দিয়ে সূচিত হলো অনন্য এক রেকর্ড। প্যারেড গ্রাউন্ডের মেশিন কাউন্ট অনুযায়ী, ২ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। তবে ৩ লাখের বেশি মানুষ প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি অনুষ্ঠান কর্তৃপক্ষের। বুধবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে গাওয়া হয় গানটির প্রথম ১০ লাইন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সাংসদ, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট নাগরিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সেনা সদস্য, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, পোশাকশ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লাখো মানুষ প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত হয়ে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান।

সংগীত পরিচালনা করেন বিশিষ্ট সুরকার স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শব্দসৈনিক সুজেয় শ্যাম। ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ গেয়ে বিশ্ব রেকর্ড করতে আজ ভোর থেকেই জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড অভিমুখে লাখো মানুষের ঢল নামে। দীর্ঘ লাইন ধরে প্যারেড গ্রাউন্ডের ভেতরে প্রবেশ করেন নানা শ্রেণী-পেশার লাখো মানুষ। এসময় প্রত্যেককে একটি ব্যাগ দেওয়া হয়। এতে জাতীয় পতাকা, গানের বাণী ও প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা লেখা কার্ড, পানির বোতল, স্যালাইন ইত্যাদি ছিল। ময়দানে প্রতি ৫০ জন লোককে নিয়ে একটি ব্লক করা হয়। মোট ব্লক ছয় হাজার।

সাড়ে ১০টার পর উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর অনুষ্ঠিত হয় মহড়া। বেলা ১১টা আট মিনিটে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। একই সঙ্গে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার এই আয়োজনে অংশ নেওয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা। বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তিন লাখেরও বেশি কণ্ঠে গাওয়া হয় গানটি। গানের সঙ্গে সবাই ঠোঁট মেলাচ্ছেন কি না—তা পর্যবেক্ষণ করে গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ।

২০১৩ সালের ৬ মে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গেয়ে গিনেজ বুকে স্থান করে নিয়েছিল সাহারা ইন্ডিয়া পরিবার (ভারত)। ওই আয়োজনে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৫৩ জন অংশ নিয়েছিলেন। বাংলাদেশের আয়োজনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল তার দ্বিগুণেরও বেশি।

বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করে। এর মধ্য দিয়ে একসঙ্গে সর্বাধিকসংখ্যক মানুষ একত্রে জাতীয় সংগীত গেয়ে বিশ্ব রেকর্ড করেছে। ঢাকার মূল অনুষ্ঠানের সঙ্গে মিল রেখে একই সময়ে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা ও সাধারণ মানুষ জাতীয় সংগীত গান। জাতীয় সংগীতের পর দেশের খ্যাতিমান এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অংশগ্রহণে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ