বদরগঞ্জ প্রতিনিধি: রংপুরের বদরগঞ্জে করতোয়া নদীর তীরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় রীতি পালনের জন্য শুরু হয়েছে করতোয়া স্নান বারুণী। প্রতি বছরের মত চৈত্র মাসে মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে ওই স্নান বারুণী অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা সূর্য্য উদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পবিত্র নদীর জলে স্নান করে মৃত পিতা-মাতার আত্মার মুক্তির জন্য মাথা মুন্ডণ করে দেবতার উদ্দেশ্যে পিন্ডি দেন। পূঁজাপার্বণ সেরে ওই করতোয়া নদীর তীরবর্তী শীব মন্দিরে অর্ঘ দিয়ে অর্থ এবং ফলমুল দান করেন। মন্দীরের দেবতার কাছে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের মঙ্গল কামনা করে পুরোহিতকে দক্ষিণা দেন।
গতকাল শুক্রবার ওই স্নান বারুণী পরিদর্শন কালে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ে মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে একদিন ধর্মীয়রীতির পালনের নিয়ম থাকলেও বারুণী মেলার ডাক দেওয়া হয়েছে আট দিনের। টেন্ডারের মাধ্যমে ওই মেলা ডাক পেয়েছেন এলাকার ব্যবসায়ী সাজেদুল ইসলাম। স্নান বারুণীর ডাক পেয়ে তিনি ধর্মীয় রীতির প্রবিত্রতা উপেক্ষা করে ওই মেলার প্রাঙ্গনে বসিয়েছে ‘দি লাবনী সার্কাস’ এবং ‘মামা ভাগ্নে পুতুল নাচ’। সার্কস এবং পুতুল নাচের নামে চলছে অশ্লীল নৃত্যের আয়োজন। ক্ষমতাসিন রাজনীতির নাম ভাঙ্গিয়ে ইজারদারের পক্ষে এ কাজে খবরদারী করছেন আব্দুল হাই নামে ওই এলাকার এক প্রভাবশালী। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এলাকাবাসী বলেন রাত হলেই মেলায় শুরু হয় জুয়ার জমজমাট আসর।
ইজারাদার সাজেদুল ইসলাম মেলার অসামাজিক কার্যকলাপের কথা অস্বীকার করে বলেন, মেলায় আসা লোকজনের জন্য আনন্দ বিনোদনের ব্যবস্থা রাখতে হয়। এজন্যই মেলায় সার্কাস ও পুতুল নাচের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্টান একদিন। এটাকে পুঁজি করে কেউ যদি অসামাজিক কার্যকলাপ করে সে দায়ীত্ব তার।
বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ধর্মীয় পবিত্রতা নষ্ট করে অসামাজিক কার্যকলাপ কেউ করতে পারবেনা। ইজারাদার বারুণীর ধর্মীয় পবিত্রতা নষ্ট না করার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।