রুকুনুজ্জামান বাবুল, পার্বতীপুর: দেখে মনেই হবে না উপ-মহাদেশের ফুটবল জগতের কিংবদন্তী ফুটবল যাদুকর এ সামাদ মিলায়তন এটি কোন বিনোদন কেন্দ্র। গত ৮ বছর ধরে হয়নি কোন নির্বাচন। চলছে এ সামাদ মিলায়তনের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক ও ডিজেল সপের কর্মরত কামাল হোসেনের নেতৃত্বে। ১৯৪৯ সালে সামাদ মিলায়তন পার্বতীপুর রেল জংশনের একটু দেিণ বাবুপাড়া এলাকায় রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিনোদনের প্রয়োজনে বৃটিশ আমলে নির্মিত হয়। বর্তমানে এ সামাদ মিলায়তন অধিকাংশ দরজা-জানালা জোড়া তালি দিয়ে দরজা গুলো বানিয়েছেন। এ সামাদ মিলায়তনে বসার চেয়ার কোন ও আসবাবপত্র নেই। আগাছায় ভরে গেছে এ সামাদ মিলায়তনের চার পাশের দেয়াল। সামান্য বৃষ্টিতেই এ সামাদ মিলায়তনে গোটা ভবনে পানি পড়ে। টয়লেট তো দূরের কথা পানির ব্যবস্থাও নেই এখানে। এক মাত্র বিদ্যুৎ ছাড়া কোন কিছুই নেই এ ভবনে। অথচ রেলওয়ে জংশনের জন্য খ্যাত বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের বৃহৎ রেলওয়ে জংশন পার্বতীপুর রেলওয়ের ১৩টি বিভাগের ২ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ২ টাকা হারে বিনোদন বাবদ চাদাঁ নেয়া হয়। এই ্এ সামাদ মিলায়তনের নামে রয়েছে ৬টি দোকান ও ২টি বাড়ী ভাড়া। ৬টি দোকান ও ২টি বাড়ী ভাড়ার টাকা ও বিনোদনের বাবদ চাদাঁর টাকার কোন হদিস নেই। এ ভবনের ভিতরেই রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এক মাত্র বিনোদন কেন্দ্রে চলছে দীর্ঘদিন থেকে অসামাজিক কার্যকলাপ। যেন দেখার কেউ নেই। এবিষয়ে এ সামাদ মিলায়তনের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক ও ডিজেল সপের কর্মরত কামাল হোসেনের বলেন, এ সামাদ মিলায়তনের নামে দোকান ও বাড়ী ভাড়া এবং বিনোদনের বাবদ চাদাঁর টাকা গছিত রয়েছে।
এ ব্যাপারে পার্বতীপুর রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলুর রহমান বলেন, পদাধিকার বলে আমি সভাপতি আমি নির্বাচন দিতে চাই কিন্তু তারা আগ্রহ না থাকায় দিতে পারছিনা। তিনি আরো বলেন, দোকান ও বাড়ী ভাড়ার টাকা ও বিনোদনের বাবদ চাদাঁর টাকার বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। তবে এ বিষয়ে এ সামাদ মিলায়তনের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক ও ডিজেল সপের কর্মরত কামাল হোসেন ভাল জানেন।
উলেখ্য, উপ মহাদেশের ফুটবল জগতের কিংবাদন্তী ফুটবল যাদুকর এ সামাদ। ১৯১৫ সাল থেকে ১৯৩৮ সাল এই ২৩ বছর ছিল সামাদের খেলোয়াড়ী জীবন। তিনি ছিলেন এক জন রেল কর্মচারী। সে সময় ইবিআর নামে যে, রেলওয়ে ফুটবল টিম ছিল এ সামাদ তাতে সত্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। সেই কারনে ইবিআর এ সামাদ নামে পরিচিত ছিলেন তিনি।এ সামাদের ২৩ বছর খেলোয়াড়ী জীবনে এমন সব বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে যা খেলার জগতে উজ্জল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। দেশে এবং দেশের বাহিরেও তার অভিনব খেলা দেখে মানুষ হতবাক হয়েছে। তার যাদুকরী ত্রীড়া কৌশল দেখে দর্শকরা উলাসে ফেটে পড়েছে। করতালী দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে। এক বার খেলার পূর্ব মহূর্তে মাঠের চারিদিকে পায়চারী করে এসে সামাদ ত্রীড়া কমিটির নিকট অভিযোগ করলেন এ মাঠ আন্তর্জাতিক মাপ হিসেবে ছোট আছে বিধায় এ মাঠে আমাদের টিম খেলতে পারে না। পরে মাঠ মাপার পর তার অভিযোগ সত্য বলে প্রমানিত হয়েছে। আরেকবার মাঠের মধ্যস্থল থেকে বল নিয়ে সব খেলোয়াড়কে বোকা বানিয়ে বল ড্রিবলিং করে নিপে করলেন গোলে, বল গোলে প্রবেশ না করে গোল পোষ্টের কয়েক ইঞ্চি উপর দিয়ে বাহিরে চলে গেলে রেফারী বাঁশী বাজিয়ে বলকে আউট ঘোষনা করলেন। কিন্তু সামাদ তা গোল হয়েছে বলে চ্যালেঞ্জ করলেন। আমার শটে নিশ্চিত গোল হয়েছে। সামাদের শটের মেজারমেন্ট কোন দিন ভুল হয় নাই। গোল পোষ্ট উচ্চতায় ছোট আছে। মেপে দেখা গেল সত্যিই তাই। তার খেলোয়াড়ী জীবনের এমন বহু ঘটনা আজও দেশ বিদেশের ক্রীড়াংগনে অগনিত সামাদ ভক্তের মুখে মুখে। যাদুকর সামাদ ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান চলে আসেন ও বসবাস করতে শুরু করেন দিনাজপুরের পার্বতীপুরে। রেলওয়ে জংশনের জন্য খ্যাত বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের বৃহৎ রেলওয়ে জংশন পার্বতীপুরে ফুটবল যাদুকর এ সামাদ ছিলেন। যদিও রেলওয়ের কোন পাটফরম ইন্সপেক্টর পদ নেই তবুও যাদুকর সামাদের জন্য রেল কর্তৃপ এই পদ সৃষ্টি করেছিলেন এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে পার্বতীপুর জংশনে পাটফরম ইন্সপেক্টর হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি রেলওয়ে সাহেব পাড়া কলোনীতে টি-১৪৭ নম্বর বাসায় থাকতেন এবং মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত পর্য়ন্ত তিনি এই বাসাতেই ছিলেন। ভারত বর্ষের বিহার এলাকার পুর্নিয়ায় ফুটবল যাদুকর এ সামাদের জন্ম হয়। তার পুরো নাম সৈয়দ আব্দুস সামাদ। তিনি ১৯৬৪ সালে ২ ফেব্রুয়ারী পার্বতীপুরে মৃত্যু বরন করেন। পার্বতীপুর শহরের ইসলামপুর কবর স্থানে তাকে দাফন করা হয়। ইসলামপুর কবর স্থানে সমাহিত করার দীর্ঘ ২৫ বছর অবহেলিত অরতি থাকার পর ১৯৮৯ সালে ৫২ হাজার টাকা খরচ করে নির্মান করা হয় স্মৃতি সৌধ।