নি্উজ ডেস্ক: বাজ পড়ে কয়েকশো বকের মৃত্যুতে গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে ফলতার বঙ্গনগর-১ পঞ্চায়েতে গোবিন্দপুর গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, মরা পাখিগুলি মাটিতে পুঁতে ফেলার জন্য পঞ্চায়েত প্রধানকে বলা হয়েছে।
গ্রামে গিয়ে জানা গেল, একটি পুকুরের পাড়ে তেঁতুল ও কদবেল গাছে গত বিশ বছর ধরে ঝাঁকে ঝাঁকে বক এসে বাসা বাঁধে। এপ্রিল মাসের দিকে দেখা মেলে তাদের। মাস চারেক থেকে ডিম পেড়ে বাচ্চা বড় হয়ে যাওবার পরে আবার সদলবলে উড়ে চলে যায়।
বছরের পর বছর গ্রামে পাখির আনাগোনায় তাদের প্রেমে পড়ে যান বাসিন্দারা। গত কয়েক বছর ধরে পাখিগুলির রক্ষণাবেক্ষণেও নজরদারি চালাচ্ছেন তাঁরা। পাখির দল যাতে ভয় পেয়ে না যায়, সে জন্য ওই চত্বরে শব্দবাজি ফাটানো বারণ। ঝড়বৃষ্টিতে বাসা থেকে বাচ্চা বা ডিম পড়ে গেলে সে দিকেও লক্ষ্য রাখেন গ্রামের মানুষ। যারই নজরে পড়ে এমন ঘটনা, তিনি সেই পক্ষিশাবক বা ডিম আবার সযত্নে গাছে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এমনকী চিল, বাজপাখি, খটাসের মত হিংস্র প্রাণিরা যাতে বকের কোন ক্ষতি করতে না পারে সেদিকেও নজর আছে সকলের।
কিন্তু শনিবার রাতে ঝড়টা সব ওলটপালট করে দিয়ে গেল।
সাড়ে ৮টা নাগাদ বকেদের আস্তানার পাশেই একটি নারকেল গাছে বাজ পড়ে। আগুনের ঝলকানিতে কয়েকশো বক ঝলসে মারা যায়। রবিবার সকালে গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, মৃত বকেরা তখনও ঝুলছে গাছের ডাল থেকে। সেকেন্দার আলি শেখ, মেহের আলি আখনরা জানান, বছরের পর বছর বকের দল আসছে, বাসা বাঁধছে গ্রামে। ওদের সঙ্গে গ্রামের মানুষেরও যেন অদ্ভুত এক সখ্য গড়ে উঠেছে। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে আসে তারা। আবার ডিম ফুটে ছানাদের নিয়ে ফিরেও যায় কারও কোনও ক্ষতি করে না। দিব্যি সকলের সঙ্গে যেন মিলেমিশে থাকে।
ভোরের আলো ফোটার আগে থেকে তাদের সাড়াশব্দে ঘুম ভাঙে এখানকার মানুষের। রবিবার সকালে সেই প্রিয় পাখিগুলির সার সার দেহ পড়ে থাকতে দেখে সকলেরই মন ভারাক্রান্ত। জাকির হোসেন শেখ কলকাতায় ব্যবসা করেন। শনিবার বাড়ি ফিরেই বকেদের খোঁজ খবর করতে চলে যান গাছের কাছে। সব ঠিকঠাক আছে, দেখে তবেই নিশ্চিন্ত। জাকিরও বলেন, “মনটা বড্ড খারাপ হয়ে গিয়েছে এই খবরে। ওরা কী ভাবে যেন বড় আপন হয়ে গিয়েছিল এত দিনে।” তবে কিছু বক এখনও জীবিত। তারা গাছের ডালে থম মেরে বসে। গ্রামের লোকের এখন একটাই চিন্তা, পরের বছর আর আসবে তো ওরা?
পঞ্চায়েতের প্রধান আখন সাবিনা বিবি গ্রামেরই বাসিন্দা। বললেন, “গোটা গ্রামেই শোকের ছায়া। ওরা আমাদের প্রতিবেশী হয়ে গিয়েছিল। মৃত পাখিগুলিকে সমাধিস্থ করার ব্যবস্থা হয়েছে।”
ফেরার পথে কানে এল, গ্রামেরই এক কিশোর হাল্কা চালে বলছে, “মরা পাখিদের কয়েকটাকে তো খেয়ে ফেললেও হয়।” ঠাস করে একটা চড় পড়ল তার গালে।
সূত্র: আনন্দবাজার