রাজশাহী: সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী চিকিৎসকদের কাছে প্রয়োজনে চাল-ডাল বিক্রি না করার ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালসহ সারাদেশে সাংবাদিকদের ওপর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার ঘটনার প্রতিবাদে রাজশাহীর সাংবাদিকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে নগরীর ব্যবসায়ীর এ ঘোষণা দেন। এছাড়া কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।
রামেক হাসপাতালসহ সারাদেশে সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে রাজশাহী সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি। এতে সাংবাদিক ছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবীরা অংশ নিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ন্যাক্কারজনক হামলা ও পরবর্তীতে সাংবাদিকদের চিকিৎসা না দেওয়ার ঘোষণার নিন্দা জানান।
সমাবেশে রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী বলেন, চিকিৎসকরা তাদের নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে সাংবাদিকদের চিকিৎসা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আজ সাংবাদিকদের চিকিৎসা দেবেন না, কাল ব্যবসায়ীদের চিকিৎসা দেবেন না, ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা দেবেন না বলে তারা ঘোষণা দিয়ে যাবে-আর আমরা কি বসে থাকবো? না, প্রয়োজনে আমরাও ওইসব চিকিৎসকদের কাছে আর চাল-ডাল বিক্রি করবো না। তখন তারা কোথায় যান, সেটি দেখবো।
রাসিক মেয়র বুলবুল সংহতি প্রকাশ করে ঘোষণা দেন, সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন প্রতিরোধে প্রয়োজনে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, কিছু কিছু চিকিৎসক মানবিক দৃষ্টিকোণ ভুলে গিয়ে এখন সন্ত্রাসীর ভূমিকা পালন করছেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে রোগী ধরার ফাঁদে পরিণত করা হয়েছে। তারা চিকিৎসার নামে অরাজকতা সৃষ্টি করছেন। সাংবাদিকদের চিকিৎসা দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়ে তারা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন।
রাজশাহী সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক শ. ম সাজুর সভাপতিত্বে এবং সদস্য রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধন ও সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন কমিটির উপদেষ্টা মোলাজ্জেম হোসেন সাচ্চু, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আকবারুল হাসান মিল্লাত, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব মামুন-অর-রশিদ, টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব অপু, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সদস্য জাবিদ অপু প্রমূখ। এছাড়াও সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) রাজশাহী জেলা সভাপতি প্রফেসর জালাল উদ্দিন সরদার, মানবধিকারকর্মী সুব্রত পাল প্রমূখ।
প্রসঙ্গত, গত ২০ এপ্রিল রামেক হাসপাতালে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এতে অন্তত ৭ সাংবাদিক আহত হন। সেই সঙ্গে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ভাঙচুরসহ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন এবং দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন। গত মঙ্গলবার রাজশাহী থেকে প্রকাশিত দৈনিক নতুন প্রভাত পত্রিকার আহত ফটো সাংবাদিককে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে না বলে রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ঘোষণা দেন। এতে বাধ্য হয়ে হাসাপাতাল ছাড়েন তিনি। তিনি এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।