ঢাকা: বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচের চাকরি ছেড়ে শেন জার্গেনসেন এখন ক্রিকেটে অনেক পিছিয়ে থাকা দেশ ফিজির কোচ হয়েছেন। জার্গেনসেনের এ সিদ্ধান্তে অনেকে বিস্মিত হলেও তিনি কিন্তু অনেক ভেবে চিন্তেই নিজের মনের মতো এ চাকরি জুটিয়ে নিয়েছেন।
বাংলাদেশ দলের কোচের পদ থেকে পদত্যাগের পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন জার্গেনসেন কোথাও চাকরি নিশ্চিত করেই পদ ছেড়েছেন। সে ধারণাই এবার সত্যি প্রমাণ হল। পরিবার অন্তঃপ্রাণ জার্গেনসেনের ইচ্ছাই ছিল দেশের আশে-পাশে কোথাও কাজ জুটিয়ে নেয়ার। দেশ এবং পরিবারের সঙ্গে যেন যোগাযোগটা সহজতর হয়। ফিজির দায়িত্ব নেয়াতেই তার সে ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি কোচিং ভালোবাসি, ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করা, তাদের কথা শোনা এবং উন্নতির দেখা পাওয়া আমার জন্য অনেক আনন্দের। এখানে আমার সে সুযোগ রয়েছে। আর বাড়ির কাছাকাছি থাকতে পারাটাও আমার কাজকে আরও সহজ করে দেবে।’
জার্গেনসেন এখানে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের এবং বয়সভিত্তিক দলগুলোরও দেখাশুনা করবেন। আগামী ২ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবেন ৩৮ বছর বয়সী এই অস্ট্রেলিয়ান কোচ। মূলতঃ রাগবির দেশ ফিজিতে ক্রিকেট জনপ্রিয়তার বিচারে অনেক পেছনে থাকা খেলা। যদিও দেশটির ক্রিকেট ঐতিহ্য অনেক পুরনো। এই দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে ১৮৭৪ সালে ক্রিকেট খেলার প্রচলন হয়। ১৯৭৯ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত নিয়মিত আইসিসি ট্রফিতেও অংশ নেয় দেশটি।
তবে এক সময়ের সম্ভাবনাময় দেশটির ক্রিকেট এখন বেহাল দশায় পৌঁছে গেছে। এখন আর আইসিসি ট্রফিতেও জায়গা হয় না আইসিসি সহযোগী দেশগুলোর তালিকায় ২৭ নম্বরে অবস্থান করা ফিজির। আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, আফগানিস্তান, নেপালদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে এখন ফিজির ক্রিকেট। আইসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগে খেললেও প্রতিবারই রেলিগেশন বরণ করতে হচ্ছে তাদেরকে। এখন তাদের অবস্থান ডিভিশন সাতে।
এতোদিন ভালো কোন কোচ পোষার কোন সামর্থ্যই ছিল না দেশটির। কিন্তু অনুন্নত খেলাগুলোর উন্নতিকল্পে বিশেষ কিছু অনুদান পাওয়ায় জার্গেনসেন মাপের কোচকে নিয়োগ দেয়ার সাহস পেয়েছে দেশটির ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ।