ঢাকা: ঢাকার বিশেষ আদালত-৩ এর বিচারক বাসুদেব রায়ের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দায়ের করা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রিটে বিভক্ত রায় দিয়েছেন আদালত।
রোববার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিভক্ত রায় দেয়া হয়।
প্রজ্ঞাপন ছাড়া বিচারক নিয়োগ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি ও আগামী তিনমাসের জন্য এ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করার আদেশ দেন জ্যেষ্ঠ বিচারক ফারাহ মাহবুব। অপরদিকে জুনিয়র বিচারক কাজী ইজারুল হক আকন্দ রিটটি খারিজ করে দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন- সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলী, বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, বারের সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন।
অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন- অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। এছাড়া দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশিদ আলম সরকার।
খুরশিদ আলম সরকার আদালত থেকে বের হয়ে বাংলামেইলকে বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী এ মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। তিনি নতুন করে শুনানির জন্য অন্য একটি বেঞ্চ গঠন করে দেবেন। সেই বেঞ্চে এ মামলার আদেশ হবে।’
এর আগে ১৩ মে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্কের পর রোববার আদেশ দেবেন বলে জানান।
গত ১২ মে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিটটি দায়ের করেন খালেদা জিয়া। মামলাটি হাইকোর্টের কার্যতালিকার ৬৪ নম্বরে রাখা হয়।
নিয়ম অনুসারে গেজেট না করে সাধারণ আদেশে দেয়া ওই বিচারকের নিয়োগ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়। পাশাপাশি রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় মামলা দুটির কার্যক্রম স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছিল।
এ রিটের বিষয়ে মামলার আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, ‘খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনকারী বিচারক বাসুদেব রায়কে সাধারণ আদেশে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ দেয়া হয়। এভাবে নিয়োগ দেয়া যায় না। গেজেট প্রকাশ করে নিয়োগ দিতে হয়।’
উল্লেখ্য, গত ১৯ মার্চ ঢাকার বিশেষ জজ-৩ বাসুদেব রায় খালেদার উপস্থিতিতে ‘জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট’ ও ‘জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট’ দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠন করে আদেশ দেন। এরপর এ অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট করা হলেও রিটটি খারিজ হয়ে যায়।