সিসিনিউজ: র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের (র্যাব) ভৈরব ক্যাম্পের অধিনায়কের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম (নবীনগর) নাজমুন নাহারকে আমলী আদালত থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মুখ্য বিচারিক হাকিম মোস্তাক আহমেদ সাহ্দানী এ নির্দেশ দেন। ৮ জুন থেকে এ আদেশ কার্যকর করা হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নবীনগরের বগডহর গ্রামের শাহনূর আলমকে (৪৩) নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে র্যাবের বিরুদ্ধে মামলা করতে রবিবার আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁর ভাই মেহেদী হাসান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নাজমুন নাহার বুধবার অধিকতর শুনানি শেষে র্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের অধিনায়কের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা গ্রহণ করতে নবীনগর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারেরও নির্দেশ দেন আদালত।
বাদীপক্ষের প্রধান আইনজীবী খায়রুল আনাম বলেন, ‘বিচারিক হাকিমকে জনস্বার্থে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ঘটনা প্রবাহে আমার মনে হচ্ছে, মামলা গ্রহণ করার জন্যে নবীনগর থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়ার কারণে বিচারিক হাকিমকে প্রত্যাহারের ঘটনাটি ঘটেছে। এর বাইরে হুট করে প্রত্যাহারের আর কোনো কারণ থাকতে পারে না বলে তিনি জানান। এদিকে শাহনুর আলম হত্যা মামলাটি স্থগিত করার জন্যে ফৌজদারী মৌশন করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মামলায় র্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর এ জেড এম সাকিব সিদ্দিককে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া র্যাব-১৪ এর উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক, নবীনগরের কৃষ্ণনগর গ্রামের নজরুল ইসলাম ও উপজেলা সদরের আবু তাহেরের (যিনি শাহনূরের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন) নাম উল্লেখসহ র্যাবের অজ্ঞাতনামা আরও সাতজনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২৯ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে র্যাব-১৪-এর একটি দল বগডহর গ্রাম থেকে শাহনূরকে চোখ ও মুখ বেঁধে ভৈরব ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে ক্যাম্পের অধিনায়ক সাকিব সিদ্দিক রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহনূরকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে শাহনূর অচেতন হয়ে পড়েন। পরদিন সকালে চেতনা ফিরলে তাঁকে নবীনগর থানায় নেওয়া হয়। উপজেলা সদরের আবু তাহেরকে থানায় ডেকে এনে শাহনূরের বিরুদ্ধে মামলা করায় র্যাব। পরে শাহনূরকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে গত ৪ মে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ও পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ৬ মে শাহনূরের মৃত্যু হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সারওয়ারে আলম বলেন, বিচারিক হাকিম নাজমুন নাহারের প্রত্যাহারের আদেশ তিনি পেয়েছেন।
নবীনগর থানার ওসি রূপক কুমার সাহা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আদালতের কোন নির্দেশ তার কাছে পৌঁছেনি। এদিকে মামলা নেওয়া ও তদন্তের নির্দেশের বিরুদ্ধে র্যাব সদস্যরা আপিল জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।