সিসিনিউজ: রংপুরের পীরগঞ্জে চাষিদের নিয়ে প্রথমবারের মতো বিটি বেগুন চাষে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে গত বুধবার। বিজ্ঞানীরা এই বেগুন চাষকে শুধু পরিবেশবান্ধবই বলছেন না, বলছেন আর্থিকভাবে কৃষকদের লাভবান হওয়ার কথাও।
মাঠ দিবসে কৃষিবিজ্ঞানীরা জানান, বেগুন উৎপাদন করতে গিয়ে কৃষকদের প্রধান বাধা বেগুনের ডগা ও ফলছিদ্রকারী পোকা। এটা ফলনের ৩০ থেকে ৭০ ভাগ নষ্ট করে দেয়। বেগুন চাষ করতে গিয়ে কীটনাশক কিনতে মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করে প্রতিবছরই লোকসানে পড়তে হয় কৃষকদের। উৎপাদনের মৌসুমে ৮০ বারের বেশি কীটনাশক স্প্রে করায় এসব বেগুন জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ তো বটেই, পোকামাকড়ের কারণে নষ্ট বেগুন থেকে কৃষকরা অনেক সময় বিনিয়োগ করা মূলধনও তুলতে পারেন না।
এসব বিষয় মাথায় রেখে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বিএআরআই উদ্ভাবিত বিটি বেগুন প্রথমবারের মতো চাষ করলেন রংপুর অঞ্চলের কৃষক।
মাটিতে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়া থেকে ক্রাই-১ এসি জিন বেগুনে অনুপ্রবেশ করানোর মাধ্যমে পোকা প্রতিরোধী বেগুন চাষ পরিবেশবান্ধব বলে প্রমাণিত, বলেছেন কৃষিবিজ্ঞানীরা।
বুধবার রংপুরের পীরগঞ্জে অনুষ্ঠিত মাঠ দিবসে গাজীপুরের জয়দেবপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আ স ম মাহাবুবুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম ম-লসহ কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তারা বলেন, অন্যান্য জাতের সাথে পর-পরাগায়ণের মাধ্যমে বিটি বেগুনের চাষ, প্রচলিত বেগুন চাষাবাদ দূরীভূত করবে বলে মনে করছেন কৃষক এবং কৃষিবিজ্ঞানীরা। এ জাতের বেগুন চাষে লাভ অনেক বেশি হয়। মাঠ দিবসে কৃষি কর্মকর্তারা এ সফলতার কথা তুলে ধরেন।
তারা আরো জানান, এবার প্রথমবারের মতো কৃষকদের ক্ষেতে এ বেগুন চাষ করা হচ্ছে। কৃষক আফজাল হোসেন জানান, ‘প্রতি বছর তিনি অন্য বেগুনের চাষ করেন। এতে লোকসান গুনতে হয়। কিন্তু এবার দুই বিঘা জমিতে বিটি বেগুন চাষ করি, তাতে লাভ অনেক বেশি হচ্ছে।’ তিনি বলেন, এ বেগুন চাষে ওষুধ কম লাগে। পোকার আক্রমণও তেমন একটা নেই। এ ছাড়া বাজারে এ বেগুনের চাহিদাও রয়েছে।