সিসিনিউজ: নীলফামারী’র কিশোরগঞ্জ উপজেলার এক প্রত্যন্ত পল্লীতে সংখ্যালঘু পরিবারের এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ভিারিণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ অতঃপর ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বার ঘটনায় আদালতে একটি মামলা হয়েছে। রোববার ধর্ষিতা ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা শারীরিক প্রতিবন্ধী ওই নারী নিজে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। নীলফামারীর বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (এনজিও) শার্প’র এর পিআরপিডি-ডিআই প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. মোস্তাহার-উল আলম ও ডিআইআরএফ মো. শফিকুল আলমের সার্বিক সহায়তায় ধর্ষিতা ওই মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার দণি চাঁদখানা বড়বালা গ্রামের রিক্শাভান চালক হতদরিদ্র শ্রী জগদীশ চন্দ্র রায়। তাঁর মেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী গোলাপী রানী রায় (৩৭)। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় ও পরিবারের অভাব-অনটনের কারণে ভিা বৃত্তি করে জীবন নির্বাহ করতো সে। তাঁর প্রতি লোলুপ দৃষ্টি পড়ে প্রতিবেশি লম্পট মো. ছাবেদ আলী’র (৪৫)। সে ওই প্রতিবন্ধী নারীকে প্রায় কু-প্রস্তাব দেয়। এতে ওই সংখ্যালঘু পরিবারের নারী অস্বীকৃতি জানান এবং এর প্রতিবাদ জানায়। এর পর থেকে দুশ্চরিত্র ছাবেদ আলী ওই নারীকে ধর্ষণের সুযোগ খুঁজতে থাকে।
ঘটনার দিন চলতি বছরের গত ৭ জানুযারী প্রতিবন্ধী গোলাপী রানী রায় রাতে প্রকৃতি’র ডাকে সাড়া দিতে বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ে যান। এ সময় সেখানে আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকা লম্পট ছাবেদ আলী ওই নারীকে ছোঁড়া’র ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক পুকুরপাড়ে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় ধর্ষক ছাবেদ ঘটনাটি প্রকাশ করিলে তাকে(গোলাপী) প্রাণে মেরে ফেলার হুঁমকি দেয়। অসহায় ওই প্রতিবন্ধী নারী নিরূপায় হয়ে জীবনে মায়া’য় তাকে ধর্ষণের ঘটনাটির বিষয়ে কাউকে কিছু বলেননি। এ অবস্থায় কিছুদিন পর তাঁর শরীরের অবস্থার পরিবর্তন দেখা দিলে সে ছাবেদ কর্তৃক ধর্ষিত হওয়ার ঘটনাটি জানায়। পরবর্তীতে এ নিয়ে গ্রামে একাধিকবার বিচার সালিশের মাধ্যমে ঘটনাটি মীমাংসার চেষ্টা চালায়। এ অবস্থায় ধর্ষিতা গোলাপী রানী ৫ মাসের অন্তঃসত্বা হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে অন্তঃসত্ত্বা গোলাপী রাণী রায় খোঁজ পান প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তায় কাজ করে এমন একটি সংস্থার নীলফামারী’র বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শার্প’র এর পিআরপিডি-ডিআই প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো.
মোস্তাহার-উল আলম এবং ডিআইআরএফ মো. শফিকুল আলমের। তাদের সর্বাত্মক সার্বিক সহায়তায় অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী রোববার ধর্ষক ছাবেদ আলী’র বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের (সংশোধনী/০৩) এর ৯(১) ধারায় ওই মামলা দায়ের করেন। নীলফামারীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিজ্ঞ বিচারক হাসানুজ্জামান মামলাটি আমলে নিয়ে তা এফআইআর হিসেবে গ্রহন করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।
বর্তমানে ওই ধর্ষিতা অন্তঃসত্ত্বা জীবনের নিরাপত্তাহীনতার কারণে রংপুরের একটি সেল্টার সেন্টারে নিরাপত্তায় রয়েছেন বলে জানান বাদিনী অ্যাড. মো. সেলিম শাহ।