• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩২ অপরাহ্ন |

বিদেশী খদ্দেরের খোঁজে পোলিয়ানারা

80673_1আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রাজিলের সাও পাওলোতে ২০ কোটি পাউন্ডে নির্মিত হয়েছে একটি স্টেডিয়াম। এর পাশেই বসতি ১৪ বছর বয়সী বালিকা পোলিয়ানার। তার মাথায় লম্বা চুল। ঘরে সুন্দর বিছানা। বিছানার ওপরে খেলনা আঁকা। ওই স্টেডিয়াম নির্মাণ করেছে যে শ্রমিকরা তাদের প্রতিদিন দুপুরের বিরতির সময়ে যৌনসুখ দিয়েছে সে। এর বিনিময়ে পেয়েছে মাত্র ২ পাউন্ড ৬০ পেনি। দুপুরে যখন খাবার জন্য বিরতি দেয়া হতো তখনই শ্রমিকরা ছুটে যেতো ক্লান্তি দূর করতে পোলিয়ানার ঘরে। সে একাই নয়, এমন অনেক পোলিয়ানা আছে, যারা অল্প বয়সেই বেছে নিয়েছে শরীর বিক্রির কাজ। ব্রাজিলে পতিতাবৃত্তি বৈধ হলেও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য তা অনুমোদিত নয়। ফলে আইনগতভাবে পোলিয়ানা এ পেশা বেছে নিতে পারে না। কিন্তু তা-ই হচ্ছে। অনেক কম বয়সী মেয়ে নানা কারণে এ পেশায় ঝুঁকে পড়েছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন উপলক্ষে তাদের চাহিদা বেড়ে গেছে বিভিন্ন মোটেলে। আইনের ফাঁক গলিয়ে মোটেলের মালিকরা তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছে। তাদের ধারণা, কমবয়সী মেয়ে সরবরাহ দিতে পারলে খদ্দেরের কাছ থেকে বেশি অর্থ আদায় করা যাবে। আবার অনেক পর্যটক কমবয়সী মেয়ে খোঁজে তার সঙ্গী হিসেবে। এ কথাটি মাথায় নিয়েই সাজানো হয়েছে ব্রাজিলের হোটেল, মোটেল। এসব বালিকা ব্রাজিলের যেসব শহরে খেলা হবে সেখানে, বিশেষ করে স্টেডিয়ামের আশপাশে সাজিয়ে বসেছে পশরা। ব্রাজিলের সাও পাওলোতে বাসভর্তি করে শেষ মুহূর্তেও পোলিয়ানার মতো বালিকা এসে জমায়েত হচ্ছে। ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় শহর সাও পাওলো। এখানে বসবাস এক কোটি ১৩ লাখ মানুষের। এ শহরে কঙ্গে ও সোমালিয়ার মতো দেশ থেকেও গিয়ে জমায়েত হয়েছে কমবয়সী মেয়ে। তাদের পাচার করে নেয়া হয়েছে। আবার তাদের অনেক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সবার চোখের সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে শহরগুলোতে অপরাধ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রকাশ্য রাস্তায় এরই মধ্যে বালিকারা তাদের খদ্দের ধরে নিয়ে ছুটে যাচ্ছে হোটেলে। আবার কেউ কেউ নিজের বিছানা ব্যবহার করে কামিয়ে নিচ্ছে অর্থ। ফাভেলা দা পাজ এলাকার এক বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, এসব মেয়েকে দেহব্যবসায় বাধ্য করছে একটি চক্র। তবে পোলিয়ানার কথা আলাদা। সে গোলাপি রঙের হোটেল ‘হোটেল প্যালেস’-এ খদ্দের নিয়ে যায়। তার ভাষায়, হোটেল মালিক আমাকে চেনেন। তিনি সব সময়ই আমাকে এ হোটেলে আসতে দেন। সাও পাওলোতে নির্মিত হয়েছে এরিনা করিনথিয়ানস স্টেডিয়াম। সেখানে কাজ করেছে ৩০০ শ্রমিক। তারাই ছিল এতদিন তার সবচেয়ে বড় কাস্টমার। এক পর্যায়ে সে বুঝতে পারে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। পোলিয়ানা কিভাবে এ অন্ধকার জগতে পা রেখেছে সে কাহিনী নিজেই বলে- এক রাতে আমার মা মারা গেছেন। আগে থেকেই আমার এই পেশায় আসার ইচ্ছা ছিল। কারণ আমার অনেক বান্ধবী এ পেশায় এসেছে। তারা অপেক্ষায় ছিল আমি কবে তাদের সঙ্গে যোগ দেবো। যে রাতে মা মারা গেলেন আমি সে রাতেই রাস্তায় বেরিয়ে পড়লাম। তখন আমি জানতাম না কিভাবে আমি আহার ও থাকার টাকা যোগাড় করবো। তবে আমাকে অপেক্ষা করতে হয় নি। ওই স্টেডিয়াম এলাকায় দেখলাম অনেক মানুষ। তারা নারী দেহ খুঁজছে। সে যে যাত্রা শুরু হলো তারপর থেকে চলছেই। পোলিয়ানা বলেছে, তার মতো অনেক মেয়ে কম বয়সেই এ পেশা বেছে নিয়েছে। তাদের বয়স ১১, ১২ বছর। তাদের মধ্যে পোলিয়ানার বয়সই বেশি। সে বলেছে, যখন বিশ্বকাপ শুরু হবে তখন দেখবেন রাস্তায় আরও কম বয়সী মেয়েদের। তারা সবাই বিদেশী খদ্দের খুঁজবে। কারণ, তারা ভাবছে বিদেশী খদ্দের ধরতে পারলে উপার্জন হবে ভাল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ