যশোর: যশোরের একটি ছাত্রী নিবাসে দুইটি মোবাইল ফোন ও একটি ট্যাব চুরির অভিযোগে গৃহপরিচারিকা (বুয়া) আকলিমা (৪২) ও তার মেয়ে শিলাকে (১০) ৩০ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়েছে ৫ ছাত্রী।
আকলিমার মুখের ভিতর কাপড় দিয়ে মুখ বন্ধ করে পিঠে ইনজেকশনের সুঁচ ফুটিয়ে নির্যাতন করেছে ছাত্রীরা।
বুধবার সন্ধ্যায় এমএম কলেজ সংলগ্ন স্টেডিয়াম পাড়ার ওই ঘটনায় পুলিশ ওই দুজনকে উদ্ধার ও ৫ ছাত্রীকে আটক করেছে।
আটককৃতরা হলেন- যশোরের মনিরামপুরের আজিজুল ইসলামের মেয়ে শান্তা (২০), কাশিমপুর গ্রামের লুৎফর বিশ্বাসের মেয়ে নাজমুন নাহার (১৯), কেশবপুর উপজেলার সানতলা গ্রামের তৌফিকুল ইসলামের মেয়ে রেশমা (২০), ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের পিকু মিয়ার মেয়ে লাকী (২০) ও মহেশপুর উপজেলার লেবুতলা গ্রামের আশরাফের মেয়ে স্নেহা (২২)। শান্তা মনিরামপুর কলেজের ছাত্রী এবং অন্যরা এমএম কলেজের ছাত্রী।
নির্যাতনের শিকার গৃহপরিচারিকা আকলিমা জানান, ওই ছাত্রী নিবাস থেকে শান্তা নামের এক ছাত্রীর একটি মোবাইল ফোন ও একটি ট্যাব এবং শাহানাজ নামের এক ছাত্রীর একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। এ ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে চুরির অভিযোগে তার মেয়েসহ তাকে ছাত্রীনিবাসে আটকে রাখে ওই ছাত্রীরা।
আকলিমা আরো জানান, চুরির দায় স্বীকার করানোর জন্য তারা মুখের ভিতর কাপড় দিয়ে মুখ বন্ধ করে পিঠে ইনজেকশনের সুঁচ ফুটিয়ে নির্যাতন করে। এছাড়াও দু’দিন ধরে বেধড়ক মারপিট করে।
একপর্যায়ে বুধবার বিকেলে আকলিমার প্রতিবেশিরা তার খোঁজে ওই ছাত্রী নিবাসে গেলে ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। এরপর সন্ধ্যায় পুলিশ খবর পেয়ে আকলিমা ও তার মেয়েকে উদ্ধার করেছে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।