রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আকতারি পারভীনের বিরুদ্ধে শিক্ষক বদলীর অনিয়মের অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আশিক রহমানের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একদল যুবক তার অফিসে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এরই একপর্যায়ে তিনি রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে খবর পেয়ে রাজারহাট থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। সূত্রে জানা যায়, রাজারহাট উপজেলার ছোট মহিষমুড়ী এলাকার জব্বার আলীর পুত্র ও কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. আশিক রহমানের ভগ্নিপতি বদরুল আলম কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহঃ শিক্ষক হিসেবে চাকুরী করে আসছে। গত ৭-৮ মাস পূর্বে তার নিজ উপজেলা রাজারহাটে বদলীর জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আকতারি পারভীন তার আবেদন আমলে না নিয়ে শূন্য পদগুলোতে ৫০-৬০ হাজার টাকার উৎকোচের বিনিময়ে অন্যদের বদলী দেয়ার অভিযোগ করেন বদরুল আলমের নিকট আত্মীয়রা। এদিকে উপজেলার হরিশ্বর তালুক এলাকার হাবিবুল ইসলামের স্ত্রী রোকসানা খাতুন রংপুরের পীরগাছা উপজেলার অন্নদানগর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছে। তার স্বামীর অভিযোগ ২০১২ ইং তাকে নিজ উপজেলা রাজারহাটে বদলীর জন্য আবেদন করা হলেও দীর্ঘদিনে তার আবেদন শিা অফিসের ফাইলে চাপা পড়ে আছে। মোছা. মাহফুজা বেগম সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরি করে আসছে। ২৫ মার্চ ২০১৩ ইং সনে তিনি বদলীর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আবেদন করলেও এক বছরেও তার আবেদন আমলে নেয়নি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল কাদেরের সঙ্গে তার মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, যারাই আজ মতার দাপটে এসব কর্মকান্ড ঘটাচ্ছে, তাদেরকে ভাবতে হবে মতা চলে গেলে আমাদের চেয়ার চেয়ারই থাকবে। তাদের চাকুরি করতে হবে না, বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আকতারি পারভীন বলেন, ছাত্রলীগের ওইসব ছেলেরা আমার সঙ্গে অসৌজন্য মূলক আচরণ করেছে। তারা বিষয়টি নিয়ে আমাকে ভুল বুঝছে। আসলে বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ডিপিও মহোদয়ের বিষয়। রাজারহাট থানার এস,আই কফিল উদ্দিন বলেন, ওসি সাহেবের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। সেখানে গিয়ে আমরা তেমন কিছু দেখতে পাইনি।