সিসিনিউজ: রাষ্ট্রীয় ও বিশেষায়িত খাতের ব্যাংকগুলোর বিশেষ উদ্যোগে ১০ টাকা দিয়ে কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলার পরিমাণ বেড়েছে ।
২০১০ সালে এ উদ্যোগ নেয়া হলেও চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৯৭ লাখ ৮৫ হাজার কৃষক ব্যাংক হিসাব খুলতে সক্ষম হয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও যদি এ উদ্যোগে সাড়া দেয় তাহলে হিসাব খোলার এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, আলোচ্য সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ও বিশেষায়িত সাত ব্যাংক কোনো ধরনের সার্ভিস চার্জ ছাড়াই ৯৬ লাখ ৮৫ হাজার ১৭৭টি হিসাব খুলেছে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এর পরিমাণ ছিল ৯৬ লাখ ৭৫ হাজার ৩১৩টি। এর মধ্যে এপ্রিলে খোলা হয়েছে তিন হাজার ৩৭৩টি হিসাব।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে ১০ টাকায় খোলা অ্যাকাউন্টের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সেইসঙ্গে সচল হিসাবের সংখ্যাও বেশি। এ ব্যাংকের পুঞ্জীভূত হিসাবের সংখ্যা ২৫ লাখ ৩৩ হাজার ২২০। আগে এর পরিমাণ ছিল ২৫ লাখ ২৯ হাজার ৫০টি। এর মধ্যে এপ্রিলে নতুন দুই হাজার ৬৯৩টি হিসাব খোলা হয়েছে।
এর পরে সোনালী ব্যাংকের ২২ লাখ ৭৯ হাজার ২৮১টি ১০ টাকার হিসাব রয়েছে। এর মধ্যে এপ্রিলে খোলা হয়েছে ১৮৯টি হিসাব। এর আগে ব্যাংকটিতে পুঞ্জীভূত হিসাবের সংখ্যা ছিল ২২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮০।
জনতা ব্যাংক ওই মাসে ১০ টাকার নতুন কোনো হিসাব খোলেনি। গত বছর নভেম্বর পর্যন্ত এ ব্যাংকে ১৪ লাখ ৯২ হাজার ৬৪৬ জন ১০ টাকায় হিসাব খুলেছেন। এর পরে আর নতুন কোনো হিসাব খোলা হয়নি।
অগ্রণী ব্যাংকের ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৭৬৯টি হিসাব রয়েছে। এর মধ্যে নতুন খোলা হয়েছে ৬৭৯টি। আগে এর পরিমাণ ছিল ১৪ লাখ ৫৮ হাজার ২৮৮টি ।
একইভাবে রূপালী ব্যাংকের চার লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৫টি হিসাব রয়েছে। এপ্রিলে খোলা হয়েছে ১২৬টি। এর আগে চার লাখ ৮৭ হাজার ২৭৭টি অ্যাকাউন্ট ছিল। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ১৪ লাখ ৩০ হাজার ৮৭৩টি হিসাব রয়েছে। এপ্রিলে এ ব্যাংকের ১০ টাকার নতুন কোনো হিসাব খোলা হয়নি। আগে এ ব্যাংকে ১৪ লাখ ৩০ হাজার ৪০২টি অ্যাকাউন্ট ছিল। বেসিক ব্যাংক ৭৬টি হিসাব নতুন খুলেছে। এ ব্যাংকের মোট হিসাবের সংখ্যা ৭১৩। তবে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এ পর্যন্ত ১০ টাকায় একটি হিসাবও খোলেনি।
এদিকে দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ১০ টাকার বিনিময়ে এসব ব্যাংক হিসাব খোলার নির্দেশ দেয়া হয়। ২০১০ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রথম কৃষকের জন্য ১০ টাকার বিনিময়ে হিসাব খুলতে বলা হয়। পর্যায়ক্রমে অন্যদের নামেও হিসাব খোলার নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব ব্যক্তি জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ অথবা কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ডের ফটোকপি এবং দুই কপি ছবি জমা দিয়ে এ ধরনের হিসাব খুলতে পারেন। এ ধরনের হিসাব পরিচালনায় ব্যাংক কোনো চার্জ আরোপ করতে পারবে না।
এদিকে এসব হিসাব থেকে স্বল্পসুদে ঋণ দেয়া এবং কৃষকের সঞ্চয়ের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া এ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অধ্যয়নরত তাদের ছেলেমেয়েদের কাছে সহজে টাকা পাঠানো এবং বিদেশে অবস্থানরত কৃষকের আত্মীয়স্বজনরা তাদের ব্যাংক হিসাবে সহজে টাকা পাঠাতে পারেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, স্বল্প টাকায় খোলা এসব ব্যাংক হিসাবের গ্রাহকরা জীবনে প্রথমবারের মতো প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবা পাচ্ছেন। এই ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তারা দৈনন্দিন ব্যাংকিং লেনদেনের বাইরে সরকার প্রদেয় কৃষি উপকরণসহ অন্যান্য ভাতা সহজেই উত্তোলন করতে পারছেন। তাই বিভিন্ন প্রণোদনা এবং কৃষককে সচেতন করার মাধ্যমে এসব অ্যাকাউন্ট সচল রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ব্যাংক শাখাগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, আর্থিক সেবাভুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে কৃষক ব্যাপক সাড়া দিয়েছেন। কিন্তু চালু করা হিসাব কতটুকু সচল রয়েছে তা এখন বিবেচনার বিষয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষককে হিসাব খুলে দিলেও তার কার্যক্রম কতটুকু চলছে, এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে নজর দিতে হবে। সূত্র: অর্থনীতি প্রতিদিন