নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীতে ধর্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করায় ধর্ষিতাসহ তার পরিবারকে সমাজ চুত্য করাসহ প্রাণনাশের হুমিক দিয়েছে ধর্ষক। এমন হুমকিতে নিজের ও স্বামী-সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কায় দিনযাপন করেছে মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের সামনে এমনই অভিযোগ করেন সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নের মাঝাপাড়া কলনী গ্রামের এই অসহায় নারী।
আদালতে দায়েরকৃত মামলা সুত্র জানা যায়, একই গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ (৪০) প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে প্রায় আসাযাওয়া করতো রিক্সভ্রান চালক শুকুর আলীর বাড়ীতে । এরই মধ্যে শুকুর আলীর অনুপস্থিতে তার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয় আজাদ। সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চলতি বছরের ৩০মে রাতে শুকুর আলীর অনুপস্থিতে ঘরের দরজা কেটে তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষনের চেষ্টাচালায় লম্পট আবুল কালাম আজাদ। এসময় শুক্ররের স্ত্রী ও শিশু সন্তানের চিৎকারে আশেপাশের মানুষ এগিয়ে এসে ওই মহিলাকে উদ্ধার করে এবং লম্পট আজাদকে আটক করলেও সুকৌশলে পালিয়ে যায় আজাদ। এই ঘটনায় পরের দিন থানায় শুক্রর আলী ও তার স্ত্রী মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতে মামলা করতে বলেন। ওই দিনই শুক্ররের স্ত্রী বাদী হয়ে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতের নারী শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার স্বীকার এই নারী অভিযোগ করে বলেন, ‘লম্পট আজাদের বিরুদ্ধে মামলা করার পর থেকেই মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। এরই মধ্যে গত ২২জুন ওই লম্পট হুমকি দিয়ে বলে‘সে দিন বেঁচে গেছিস, আশাপাশের মানুষ আর তোর সন্তানের জন্য। এবার আর বাঁচবি না,। এবার তোকে ভোগ করেতে গিয়ে যে বাঁধা দিতে আসবে সেই মরবে। আর তোর স্বামী-সন্তানকে আগে হত্যা করবো।’
ঘটনার সত্যতা শিকার করে গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য আকবর আলী বলেন, ‘আবুল কালাম আজাদ একজন খারাপ চরিত্রের লোক। সে আগে ঢাকায় থাকতো। ৮/৯ বছর থেকে গ্রামে আসার পর থেকে বিভিন্ন অসামাজিক কাজ করে বেরাচ্ছে। তার অত্যাচারে এলাকার মা-বোনেরা ঘর থেকে বাহির হতে পর্যন্ত পারে না। স্ত্রী-দুই কন্যা সন্তান থাকার পরেও বছর পাঁচেক আগে তিন সন্তানের এক মিহলাকে বিয়ে করে আজাদ। তারপরেও সে ক্ষান্ত হয়নি। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি নারীর সর্বনাশ ঘটাতে গিয়ে আটক হয়। বেশ কয়েক বার তাকে নিয়ে স্থানীয় বিচার সালিশের করা হয়।’