• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন |

বীরগঞ্জের কারাগারটি এখন অসামাজিক কাজের আখড়ায় পরিণত

03.07.2014-Up.Karagar.মীর কাসেম লালু, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর): বীরগঞ্জে সরকারী কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত উপ-কারাগারটি এখন মাদক সেবন ও অসামাজিক কাজের আখড়ায় পরিনত হয়েছে।
এরশাদ সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক থানা পদ্ধতি বাতিল করে উপজেলা পদ্ধতি চালূ করা হয়। উপজেলায় রূপান্তর করার সাথে সাথে দরিদ্র মানুষের দ্বারপ্রান্তে সরাসরি বিচার ব্যবস্থা ও উন্নয়ন পৌছে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিস, উপজেলা মাজিষ্ট্রেট আদালত , উপজেলা মুনসেফ আদালত, বাসভবন, গেজেটেড কোয়াটার, ষ্টাফ কোয়াটার, ব্যাচেলর কোয়াটার, সহকারী কমিশনার ভূমি অফিস স্থাপন ও স্থাপনা নির্মান করা হয়। পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডে সরকারী ৭ দশমিক ৫০ একর জমিতে উপ-কারাগার র্নিমান করা হয়। উপ-কারাগারের অফিস ভবন, সাব-জেলার কোয়াটার, পুরুষ হাজত ও মহিলা হাজত, রান্নাঘর পৃথক পৃথক টয়লেট, বিদ্যুৎ সংযোগ ও সাপলাই পানির ব্যবস্থা করা হয়।
জাতীয় পাটির সরকার তত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ১৯৯০ইং সালে আনুষ্ঠিানিক ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতা পরিবর্তন হয়। রাষ্ট্রিয় ক্ষমতা পরিবর্তনের পর উপজেলা পদ্ধতি বাতিল করে থানা পদ্ধতি পর্নবহাল করা হয়। উপজেলা আদালত সমুহ তুলে নেওয়া হয় একই সাথে উপকারগারের আসামীদের প্রত্যাহার করে জেলা কারাগারে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেই থেকে দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে কোটি টাকার সরকারী মূল্যবান রাষ্ট্রিয় সম্পদ পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বর্তমানে মাদক সেবন ও অসামাজিক কাজের নিরাপদ স্থানে পরিনত হয়েছে এগুলো। একই সময়ে নির্মিত দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপ-কারাগার ও ঠাকুরগাঁও জেলার রানী শংকৈল উপ-কারাগারের একই অবস্থা।
বীরগঞ্জ উপ-কারাগার গতকাল সকালে পরিদর্শন কালে দেখা যায় সমাজসেবা অধি দপ্তরের অধিনস্থ কর্মচারী মোঃ অব্দুর রহমান কেয়ার টেকারের দায়িত্ব পালন করছেন। উপ-কারাগারের সাব-জেলারের কোয়াটার গুলোর জরার্জীন অবস্থা, সরকারী ৭ দশমিক ৫০ একর জমিতে উপ-কারাগারের অফিস ভবন, সাব-জেলারের কোয়াটার, পুরুষ হাজত ও মহিলা হাজতখান, রান্নাঘর পৃথক পৃথক টয়লেটের দরজা-জানালা গুলো খুলে  পড়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যাবস্থা ও সাপলাই পানির ব্যাবস্থা চালু রয়েছে। কেয়ার টেকার আব্দুর রহমান জানান দীর্ঘ দিন পরিত্যাক্ত থাকার কারনে ভূতুরে অবস্থার সৃষ্টি ও মাদক সেবনের নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার হচ্ছিল। আমি নিজস্ব অর্থ ব্যায়ে তা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে বৃদ্ধা মাকে সাথে নিয়ে উপ-কারাগাটি রক্ষনা-বেক্ষন করছি।
এলাকাবাসীর পরিচালনায় উপ-কারাগার ক্যাম্পাসে একটি জামে মসজিদ ও ২৫ জন এতিম সম্বলিত একটি এতিমখানা রয়েছে। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ মতিয়ার রহমান জানান। উপ-কারাগার ক্যম্পাসে একটি বেকার যুবক ও যুব মহিলা কারিগরি  প্রশিক্ষন কেন্দ্র, কিশোর অপরাধ সংশোধন ও পুর্নবাসন কেন্দ্র, শেখ রাসেল শিশু একাডেমি ও শিশু পুর্নবাসন কেন্দ্র, স্থাপনের জন্য প্রাথমিক ভাবে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য সমাজ কল্যান মন্ত্রণলয়ে প্রস্তাব প্রেরন করা হয়। উপরোক্ত প্রস্তাবের আলোকে সরকারী বরাদ্দ দেওয়া হলে সমাজ কল্যান অধিপ্তর উপ-কারগারটি নিয়ন্ত্রন সহ সরকারী প্রতিষ্ঠান সরকারি ভাবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। এলকার হাজার হাজার শিশু কিশোর কারিগরি প্রশিক্ষন গ্রহণ করে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তরিত হবে বলে আশা করছি। দিনাজপুর-১ আসনের জতীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের আশু হস্তক্ষেপে প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টির জোর দাবী এখানে শেখ রাসেল শিশু একাডেমি ও  শিশু পূর্ণবাসন কেন্দ্র স্থাপন করা হউক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ