• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫২ অপরাহ্ন |

জলঢাকা ইউএনও’র অপসারণের দাবীতে ইউপি চেয়ারম্যানরা একট্টা

Joldhakaসিসিনিউজ: নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  হাসান হাবিবের অপসারনের দাবী জানালেন এবার উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা। ইউপি চেয়ারম্যানরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দূর্নীতিবাজ আখ্যায়িত করে তাকে অপসারণের দাবীতে সোমবার স্থানীয় সংসদ সদস্য, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। এর আগে গত ৬ জুলাই এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও দূর্নীতির অভিযোগ এনে তার অপসারণের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেন জলঢাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহীদ হোসেন রুবেল।
১১ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত অভিযোগে জানা গেছে ২০১৪ সালের ২৩ এপ্রিল জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন হাসান হাবিব। তিনি যোগদানের পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর ও আইন শৃংঙ্খলা পরিস্থিতি সহ সার্বিক ক্ষেত্রে অরাজকতা, বিশৃংঙ্খলা ও দূর্নীতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাধারণ মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করার মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দূর্নীতির কারণে উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যহত সহ লোকজনের মাঝে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে অভিযোগে বলা হয় ।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ এনে  গত ৬ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করেন  জলঢাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহীদ হোসেন রুবেল। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই আওয়ামীলীগ নেতা বলেন কাবিখা ও টিআর প্রকল্পে টন প্রতি দেড় হাজার টাকা এবং কাবিটা প্রকল্পে (কাজের বিনিময় টাকা) প্রতি লাখে ২০ হাজার টাকা করে উৎকোচ নেয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান হাবিব। এই টাকা না পেলে তিনি বরাদ্দের ছাড় পত্রে স্বাক্ষর করেন না। সংবাদ সম্মেলনে উদাহরণ স্বরূপ আওয়ামীলীগ নেতা বলেন, পশ্চিম কাঁঠালী নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের জন্য ৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। আমি নিজে প্রকল্প কমিটির সভাপতিকে সাথে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে  চুড়ান্ত বিলে স্বাক্ষর নেয়ার জন্য গেলে তিনি আমার কাছে টন প্রতি দেড় হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন। তিনি বলেন আমি সরকার দলীয় লোক হওয়ার পরেও ইউএনও আমার কাছে ঘুষ দাবী করেন তাহলে সাধারণ মানুষের কি অবস্থা হবে। এভাবে গেল অর্থ বছরে কাবিখা-টিআর প্রকল্পের আট’শ ৩৪ মেট্রিক টন চাল ও কাবিটা প্রকল্পের এক কোটি ১ লাখ ৮ হাজার টাকা থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রায় কোটি টাকা উৎকোচ আদায় করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। অবিলম্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অপসারণ করা না হলে কঠোর কর্মসূচী দেয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন কতিপয় ব্যক্তির স্বার্থহানী হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ