• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫২ অপরাহ্ন |

নীলফামারীর ডিমলায় ভিজিএফ’র চাল আটক: তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

Pic-06-07-14-5নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের গোডাউনের হাট এলাকা থেকে ভিজিএফ’র ৪২ বস্তা চাল, এক বস্তা গম এবং খাদ্য বিভাগের একশ খালি বস্তা উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার মধ্য রাতে গোপন সংবাদদের ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন গুদামের হাটের চাল ব্যবসায়ী পরেশ চন্দ্র রায়ের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে
ওই মালামাল উদ্ধার করেন উপজেলার দায়িতে থাকা ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিউর রহমান। উদ্ধারের পর গুদামটি সীলগালা করা হয় । এই ঘটনায় উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান ডিমলা থানার উপ-পরির্দশক শরিফ আহমেদ।
এলাকাবাসি জানায়, মঙ্গলবার বিকেল পযর্ন্ত ভিজিএফের চাল বিতরণ করেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল হক হুদা। এরপর রাত সাড়ে দশটার পর থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ গোডাউনের হাটের চাল ব্যবসায়ী পরেশ চন্দ্র রায়ের গুদাম থেকে ৪২ বস্তা চাল ও এক বস্তা গম এবং খাদ্য বিভাগের ১০০ খালি বস্তা উদ্ধার করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এলাকাবাসী আরো অভিযোগ ওই অভিযানের পর রাত দুইটার দিকে খালিশা চাপানী এলাকার চাল ব্যবসায়ী মজিবর রহমান ও নূর আলমের গুদামে রক্ষিত খাদ্য বিভাগের সরবরাহকৃত দুইশ বস্তা সরিয়ে ফেলা হয়। উদ্ধারকৃত ওই চাল ভিজিএফ কার্ডধারীদের মাঝে বিতরণ না করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল হক হুদা আত্মসাতের জন্য পরিষদ সংলগ্ন একটি গুদামে রেখেছিলেন।
ডিমলা থানার উপ-পরিদর্শক শরিফ আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার রাতে ডিমলা উপজেলার দায়িত্বে থাকা ডোমার উপজেলা নির্বাহী  কর্মকর্তা শফিউর রহমানের নেতৃত্বে খালিশা চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের পাশে গোডাউনের হাটের চাল ব্যবসায়ী পরেশ চন্দ্র রায়ের গুদামে অভিযান চালিয়ে ভিজিএফ’র ৪২ বস্তা চাল, এক বস্তা গম ও  খাদ্য গুদামের ১০০টি খালি বস্তা উদ্ধার করা হয়। এরপর গুদামটি সীলগালা করে চৌকিদার পাহাড়ায় রয়েছে। এঘটনায় থানায় কোন মামলা হয়নি বলে জানান তিনি।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ওই উপজেলার দায়িত্বে থাকা ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে ডিমলা উপজেলা খাদ্য  কর্মকর্তা ও  এই ঘটনার তদন্তকারী দলের প্রধান সাহিদুর রহমান বিকেল সাড়ে চারটায় তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই মাত্র ইউএনও স্যারের একটি চিঠি এসে পৌঁচেছে আমার হাতে। চিঠিতে আমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি টীম করে ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। টীমের অন্য সদস্যরা হলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নায়েমা তাবাচ্ছুম শাহ ও উপজেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা সুদেব কুমার দাস। কবে তদন্ত শেষ হবে সে বিষয়ে তাৎক্ষনিক জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালেব মৌল্লা জানান, খালিশা চাপানী ইউনিয়নে রমজান ও ঈদ উপলক্ষে সাত হাজার ৬৮৫ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে বিতরণের জন্য ৭৬ দশমিক ৮৫০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। গত ৩০ জুন ওই চাল উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করে মঙ্গলবার পর্যন্ত বিতরণ করেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল হক হুদা। এরপর রাতে এলাকার একটি গুদাম থেকে ভিজিএফ’র ৪২ বস্তা চাল, এক বস্তা গম ও ১০০টি খালি বস্তা উদ্ধার করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা । তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত চাল ও গম কার এবং কিভাবে ওই গুদামে এসছে সেটি তদন্ত করে দেখছে খাদ্য বিভাগ। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
খালিশা চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল হক হুদা বলেন, আমি মঙ্গলবার বিকেল তিনটার মধ্যে চাল বিতরণ শেষ করেছি। পরে শুনতে পেরেছি অনেক কার্ডধারী চাল নেয়ার পর ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রী করেছে। রাতে উদ্ধারকৃত চাল, গম এবং বস্তা আমার নয়। চাল বিতরণের পর খালি বস্তা আমার গুদামে সংরক্ষণ করেছি। একটি চক্র আমাকে ফাঁসানোর জন্য ওই ঘটনা সাজিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ