সিসিনিউজ: নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ অনিয়ম করা হয়েছে মৎস সপ্তাহ পালন উপলক্ষে। অসৎ উপায়ে অর্থ হাতাতে মৎস কর্মকর্তা খালেদ মোশাররফ এমনটি ঘটিয়েছেন বলে জোর গুঞ্জন চলছে।
সপ্তাহব্যাপি নানা কর্মসূচি পালনের সরকারী নির্দেশনা থাকলেও উপজেলা মৎস কর্মকর্তা তা করেননি। মৎস সপ্তাহের কর্মসূচির মধ্যে ৬ জুলাই ছিল গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ৫ জুলাই ছিল মৎস আইন বাস্তবায়নে সুধীজনদের সঙ্গে আলোচনা সভা। অথচ মৎস কর্মকর্তা খালেদ মোশারফ এ দুইদিনে কোন কর্মসূচি পালন করেননি বলে অভিযোগ আছে। এমনকি ৮ জুলাই সমাপনী দিনে মূল্যায়ন সভাও দায়সারাভাবে করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ।
কথা হয় সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল হক, সাংবাদিক সমিতি সৈয়দপুর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আমিরুজ্জামান, স্থানীয় সাংবাদিক জিকরুল হকের সাথে। তারা জানান, গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে মৎস কর্মকর্তার মতবিনিময় কর্মসূচি বিষয়ে আমরা জানিই না, উপস্থিত থাকার তো প্রশ্নই উঠে না। সুধীজন আছাদুর রহমান বাটু সরকার জানান, কর্তৃপক্ষের পত্র মোতাবেক নির্দিষ্ট সময়ে আমি উপস্থিত হয়ে জানতে পাই তারা সভার কাজ আগেই শেষ করেছে। মৎস সপ্তাহের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল ২ জুলাই মৎস সপ্তাহের উদ্বোধন, ৩ জুলাই ফরমালিন বিরোধী অভিযান ও মৎস সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন, ৪ জুলাই মৎস চাষে উন্নয়নে প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন, ৫ জুলাই ছিল মৎস আইন বাস্তবায়নে সুধীজনদের সঙ্গে আলোচনা, ৬ জুলাই স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়, ৭ জুলাই মাছ চাষ বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে আলোচনা সভাকরণ ও ৮ জুলাই ছিল মৎস চাষিদের নিয়ে মূল্যায়ন সভা।
কিন্তু উপজেলা মৎস কর্মকর্তা খালেদ মোশারফ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছাড়া অন্যান্য দিনের কর্মসূচি একবারে দায়সারা ভাবে পালন করেছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
মৎস সপ্তাহের কর্মসূচি পালন না করার অভিযোগ বিষয়ে উপজেলা মৎস কর্মকর্তা খালেদ মোশারফের মুখোমুখি হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মৎস সপ্তাহের উদ্বোধনী দিনে অনেক গণমাধ্যম কর্মী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল, এই উপস্থিতিটাই গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় বলে ধরে নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা মৎস কর্মকর্তা শাহ ইমাম জাফর সালেহ’র সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে আমি খোঁজ নিচ্ছি।