সিসি নিউজ: ২০ রমজানের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ বোনাসসহ বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র সমাবেশ করেছে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা কমিটির সভাপতি এম এ শাহীন। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের জেলার সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দাস, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের জেলার নেতা দুলাল সাহা, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সহসভাপতি আবদুস সালাম বাবুল, মোতাহার হোসেন, দিলীপ দাস, বিল্লাল হোসেন সোহেল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, আগামী ২০ রমজানের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ বোনাসসহ বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে। যে শ্রমিকদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে পোশাক তৈরি হয়, সেই পোশাক বিদেশে রপ্তানি করে কারখানার মালিকরা রাতারাতি হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে যান কিন্তু শ্রমিকদের শ্রমের ন্যায্য মজুরি দেয় না। মাসের পর মাস বেতন বকেয়া থাকে। বর্ধিত মজুরি এখন পর্যন্ত সব কারখানায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ না করেই গার্মেন্ট মালিকরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে বিদেশে গিয়ে ঈদ উৎসব করার ভিসা-টিকিট করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
মালিকরা বিদেশে ঈদ উৎসব করবেন আর শ্রমিকরা না খেয়ে থাকবেন তা এবার করতে দেয়া হবে না, শ্রমিকরা তা হতে দেবেন না। একদিকে শ্রমের ন্যায্যমূল্য নেই, অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে শ্রমজীবী মানুষ আজ দিশাহারা। তারা আজ অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তাহীনতা, ছাঁটাই-বরখাস্ত, হামলা-মামলা, নির্যাতন ও গার্মেন্ট মালিকদের অমানবিক শোষণ পোশাকশিল্পের ৪০ লাখ শ্রমিককে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য করছেন। শ্রমিক স্বার্থবিরোধী আইন প্রণয়ন করে শ্রমিকদের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। ট্রেড ইউনিয়ন করতে দেয়া হয় না। নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটির কোন কার্যকারিতা নেই। নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র দেয়া হয় না। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেস ক্লাবে এসে সমাপ্ত হয়।