মাগুরা: বিশ্বকাপ ফুটবলের জার্মান দলের ভক্ত কৃষক আমজাদ হোসেনের তৈরি সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ বিশাল পতাকা দেখতে ও তাকে অভিনন্দন জানাতে মাগুরায় এসেছিলেন বাংলাদেশে জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. ফার্ডিনান্ড ভন ওয়েহে।
শনিবার দুপুরে তিনি মাগুরা স্টেডিয়ামে জার্মানীর পতাকা দেখেন এবং কৃষক আমজাদ হোসেনকে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানান।
ওই সময় চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জার্মান জাতীয় ফুটবল দলের অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের আজীবন সদস্য পদের সার্টিফিকেট ও কিছু উপহার কৃষক আমজাদ হোসেনের হাতে তুলে দেন। উপহার পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
কৃষক আমজাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমার তৈরি পতাকা আমার গ্রাম, জেলা ও বাংলাদেশকে জার্মানের কাছে পরিচিত করে তুলেছে। এতেই আমি আনান্দিত। আমার আর কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই।
অনুষ্ঠানে চার্জ দা অ্যাফেয়ার্স ড. ফার্ডিনান্ড বলেন, পতাকা তৈরির ঘটনায় আমি খুবই আনন্দিত এবং জার্মান জাতীয় ফুটবল দলের অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের আজীবন সদস্য পদ দিতে পেরে আমরা খুবই গর্বিত। মাগুরা স্টেডিয়ামে বিপুল সংখ্যক দর্শক ও জার্মান ভক্তরা এসময় করতালি দিয়ে কৃষক আমজাদ হোসেন ও ড. ফার্ডিনান্ড ভনকে অভিনন্দন জানান।
উল্লেখ্য, মাগুরার সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের নেহাল উদ্দিন মোল্যার ছেলে ৬৫ বছরের আমজাদ হোসেন পেশায় একজন সাধারণ কৃষক। ২০০৫ সালে তিনি দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হন। অনেক রকম চিকিৎসা নিয়ে সে সময় তিনি সুফল পাননি। অবশেষে এক চিকিৎসকের পরামর্শে জার্মানের হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সেবনের পরই সুস্থ হয়ে ওঠেন কৃষক আমজাদ। এরপর থেকেই তিনি জার্মানের ভক্ত হয়ে ওঠেন। ওই সূত্র ধরেই তিনি বিশ্বকাপে জার্মান ফুটবল দলের ভক্ত হয়ে যান। যার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নিজ খরচে তৈরি করেন সাড়ে তিন কিলোমিটার পতাকা।
আমজাদ হোসেন একজন খেটে খাওয়া সাধারণ কৃষক। অথচ তিন হাজার পাঁচশ’ ৫০ গজের বিশাল দৈর্ঘের পতাকা তৈরিতে তিনি ব্যয় করেছেন প্রায় দেড় লাখ টাকা। এ খরচ জোগাড় করতে তাকে বিক্রি করতে হয়েছে নিজস্ব ৫০ শতক আবাদি জমি।
আমজাদ হোসেন জানান, পতাকা তৈরির জন্য তিনি প্রথম তার গ্রামের এলাহির কাছে ২০ শতক জমি বিক্রি করেন। কিন্তু সে টাকার বেশিরভাগ অন্যকাজে খরচ হয়ে যায়। যে কারণে দ্বিতীয় দফায় তার ভাতিজা মিজানুরের কাছে ৩০ শতক জমি বিক্রি করেছেন। যার ভেতর থেকে দেড় লাখ টাকা ব্যয় করেছেন পতাকা তৈরির জন্য। তিন কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ পতাকা তৈরির জন্য তিনি শহিদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন এবং সাইদ মোল্যা নামে তিন দর্জিকে নিয়োগ করেন। তাদের মজুরি দিতে হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা।
তবে টাকা খরচের বিষয় নিয়ে তিনি মোটেই চিন্তিত নন। তার দল বিশ্বকাপ জিতলে বরং আরো বেশি টাকা খরচ করবেন বলে জানান। আর এ জন্য আগামীকাল রোববার রাতে বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মান দলের বিজয় দেখতে উন্মুখ হয়ে আছেন।