• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

কিশোরগঞ্জে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম

Awamili Flagসিএসএম তপন, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী): নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে উপজেলার আওয়ামীলীগ সহ অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে কাউন্সিল না হওয়ায় দলের নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা ও বিভেদের কারনে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়েছে। ৬জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সর্বনিম্ন ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারী কিশোরগঞ্জ বাজারের পথসভায় কেন্দ্রীয় নেতাগন মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা না জেনে আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এছরারুল হককে দলীয় সমর্থন জানায় আওয়ামীলীগের রংপুর বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ,সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী ফারুক খান,অসিম কুমার উকিল সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এছরারুল হক(কাপপিরিচ) তিনি ভোট পেয়েছেন মাত্র ১হাজার ১০৯ ভোট যা ০১টি কেন্দ্রের ভোট নয়। অপরদিকে আওয়ামীলীগের তৃনমুল সমর্থন প্রার্থী আওয়ামীলীগের সমর্থক মশিয়ার রহমান (মোটর সাইকেল) ভোট পেয়েছেন  ২১ হাজার ৩৩ ভোট। এখানে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীর তুলনায় বিদ্রোহী প্রার্থী প্রায় ২০ গুন ও বিজয়ী প্রার্থী ৩৫গুন ভোট বেশি পান।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জানান,ঘোড়া প্রতিকের পক্ষ নিয়ে নিজে যেমন হেরেছেন তেমনি দলের অপর প্রার্থী মশিয়ার রহমানকে হারিয়েছেন।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জাকির হোসেন বাবুল জানান,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে। কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে প্রায় ৭বছর আগে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন কমিটিগুলোও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উপজেলা আওমীলীগের সর্বশেষ দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ঐ কাউন্সিলে সাবেক এম,পি রওশন আলী দুলু মিয়াকে সভাপতি ,জাকির হোসেন বাবুলকে সাধারন সম্পাদক ও রফিকুল ইসলামকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৬৮সদস্য বিশিষ্ট ২বছর মেয়াদী উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও আর কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়নি। জাকির হোসেন বাবুল বলেন,ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে ও দলকে গতিশীল করতে হলে কাউন্সিল অত্যাবশক। এদিকে ২০০৩সালের ৩ সেপ্টেম্বর আওয়ামী যুবলীগ দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ফনিভুষন মজুমদারকে সভাপতি,মোঃ গোলাম রব্বানী বিপুল চৌধুরীকে সাধারন সম্পাদক ও প্রাণকৃষ্ণ রায়কে সাংগঠনিক ৫১ সদস্য বিশিষ্ট ২বছর মেয়াদী উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। অপরদিকে ১৯ডিসেম্বর ২০০৩  সালে দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কিশোরগঞ্জ উপজেলা শাখা অনুষ্ঠিত হয়।
শাহ আবুল কালাম বারী (পাইলট) কে সভাপতি,রবিউল ইসলাম (বাবু) কে সাধারন সম্পাদক ও পতিরাম রায়কে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট ২বছর মেয়াদী কমিটি গঠন করা হয়। ছাত্রলীগ সভাপতি জানান, পুনাঙ্গ কমিটিতে বর্তমান অছাত্র ও ৪৭জন বিবাহিত দিয়ে চলছে কার্যক্রম। সাধারন সম্পাদক সহ অনেক ছাত্রলীগ নেতারা ঠিকাদারী,চাকুরী ও অন্যান্য পেশায় জড়িত।
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন,গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আমি (টিয়া)মার্কা প্রতিক নিয়ে ১৯হাজার ৫৭৮ ভোট পাই। তিনি জানান,আওয়ামীলীগ সহ অঙ্গসংগঠন সহযোগীতা করলে আমি ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতাম। তারা সহযোগিতা না করায় আমার ও দলের পরাজয় হয়েছে।
দীর্ঘদিন থেকে সম্মেলন না হওয়ায় উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব প্রত্যাশী নেতা কর্মীদের মধ্যে চরম  হতাশা বিরাজ করছে। তাদের মধ্যে বিভেদের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অনেক নেতাকর্মী নিস্কিয় হয়ে পড়েছেন। এভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে কৃষকলীগ,শ্রমিকলীগ ও মহিলালীগসহ অন্যান্য অঙ্গ সহযোগী সংগঠন গুলো। তারা দলের অনেক কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করছেন না। দলীয় কর্মসূচী বাস্তবায়নে অনেক সময় কর্মী খুঁজে পাওয়া যায় না। হতাশা ও বিভেদ ক্ষোভের কারণে দলীয় কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। অবিলম্বে কাউন্সিলের মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠন করা না হলে জাতীয় নির্বাচন সহ কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালন করতে সমস্যায় পড়তে হবে বলে ত্যাগী-তৃনমুল নেতাকর্মীরা অভিমত ব্যক্ত করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ