মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর: দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে অবৈধভাবে অবাধে আসছে ভারতীয় মোটরসাইকেল। অবৈধ মোটরসাইকেল দেশে আসার পর বৈধ করার সকল প্রকার কাজগপত্র তৈরি করে দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসনের একটি চক্র। জেলা পুলিশ বিভাগের কোন ধরনের তৎপরতা না থাকলেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গত ৩ দিনে বিরামপুর উপজেলা সীমান্তবর্তী গ্রাম বিজুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাই পথে আসা ৫টি মোটর সাইকেল আটক করেছে।
দিনাজপুর জেলা ঘিরে রয়েছে বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকা। আর এ সকল সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে চোরাই পথে প্রতিনিয়তই আসছে মাদক, অস্ত্রসহ ভারতীয় বিভিন্ন মালামাল। সীমান্ত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি এতই নাজুক যার সুযোগ ব্যবহার করে চোরাকারবারীরা অধিক মুনাফা পাওয়ার লোভে এখন চোরাই পথে মোটরসাইকেল আনছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছিক এক চোরাই ব্যবসায়ী জানায়, ভারত থেকে একটি মোটরসাইকেল চোরাই পথে নিয়ে আসলে ৫০ হাজার টাকারও বেশী লাভ হয়। চোরাই পথে মোটরসাইকেল নিয়ে আসার পর মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন নাম্বার-চেচিস নাম্বার মুছে দিয়ে নতুন করে খোদাই করে লিখা হয়। তারপর নতুন নাম্বার দিয়ে তৈরি করা হয় বৈধ কাগজ পত্র। এ সকল কাগজপত্র তৈরি করতে স্থানীয় এক শ্রেণীর অসাধু মোটরসাইকেল বিক্রেতাদের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে করা হয়। চোরাই পথে আসা মোটরসাইকেলে অধিক লাভ থাকায় দিন দিন জনবল বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শুক্রবার বিরামপুর উপজেলার বিজুল গ্রামে বিজিবি অভিযান চালিয়ে চোরাই পথে আসা ৫টি মোটরসাইকেল আটক করে। মোটরসাইকেলের মধ্যে ২টি পালসার ১৫০ সিসি, ৩টি ডিসকোভার ১২৫সিসি রয়েছে। পরে বিরামপুর থানায় মোটরসাইকেলগুলো হস্তান্তর করে মামলা দায়ের করা হয়।
এ ব্যাপারে বিজিবি-৪০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক কর্ণেল জাহিদুর রশিদ জানান, দীর্ঘদিন থেকে সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে চোরাই পথে মোটরসাইকেল আসছে এমন সংবাদ আমাদের কাছে ছিলো। এমন সংবাদের ভিত্তিইে চোরাই পথে নিয়ে আসা মোটরসাইকেল চক্রটিকে ধরার জন্য অনেক দিন থেকে বিজিবি সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছিলো। শুক্রবার বিজুল গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৫টি চোরাই মোটরসাইকেল আটক করে। তিনি জানান, এসব চোরাকারবারী চক্রটিকে আটক করতে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।