• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন |

মারিও গোৎসার গোলে ইতিহাস গড়লো জার্মানি

goalসিসিনিউজ: ব্রাজিল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ ঘরে তুলে নিয়েছে ইউরোপের ফুটবল পরাশক্তি জার্মানি। অতিরিক্ত সময়ে মারিও গোৎসার গোলে ইতিহাস গড়লো জার্মানি। লাতিন আমেরিকা থেকে প্রথম কোন ইউরোপীয় দেশ শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখালো তারা। এটি তাদের চতুর্থ শিরোপা। অতিরিক্ত সময়ের ১১২ মিনিটে গোল করেন গোৎসা। ৯০ মিনিটে কোন গোল হযনিা। টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনাল অতিরিক্ত সময়ে গড়ালো। ২০০৬এ অতিরিক্ত সময়ের দুই গোলে ফ্রান্সকে হারায় ইতালি। আর ২০১০এ স্পেন হারায় নেদারল্যান্ডসকে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে লাভেজ্জির পরিবর্তে মাঠে নামানো সার্জিও আগুয়েরোকে। এই অর্ধেও প্রথম সহজ সুযোগ নষ্ট করেন লিওনেল মেসি। ৪৯ মিনিটের সময় বল নিয়ে ডান দিকে দিয়ে ভেতরে ডুকলেও নয়্যারকে পরীক্ষায় ফেলতে পারেন নি মেসি। বল গড়িয়ে বারের বাইরে দিয়ে চলে যায়। মেসির কাছ থেকে এমন মিস কমই দেখা যায়। এই অর্ধে ৫৪ মিনিটে জার্মানি একটা সুযোগ তৈরি করলেও তা সহজ ছিল না। এর দুই মিনিট পর নয়্যার বক্সের প্রান্তে এসে লাফিয়ে ঘুষি মেরে বল বাইরে না পাঠালে বিপদ হতে পারতো। বলের পেছনে ছুটছিলেন হিগুয়েইন। নয়্যারের সঙ্গে ধাক্কায় তিনি মাটিতে পড়ে গিয়ে পেনাল্টির দাবি করছিলেন।
প্রথমার্ধে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণের খেলায় সম্ভাবনা তৈরি হলেও কোন গোল পায়নি কোন দলই। অন্তত ১-১ হতে পারতো ফল। দু’দলই সহজ সুযোগ হারায়। তবে মিনিটের সময় জার্মানির জালে প্রথম বল জড়িয়ে বিশ্বব্যাপি আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উল্লসিত করে তুলেছিলেন গনজালো হিগুয়েইন। মেসির ক্রস থেকে বল পেয়ে জালে জড়াতে কার্পণ্য করেন নি এই স্ট্রাইকার। কিন্তু সহকারী রেফারির পতাকা ততক্ষণে উত্তোলিত হওয়ায় বেঁচে যায় জার্মানি। অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় গোলটি। মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ে সব আর্জেন্টিনা সমর্থক। এ সময় চোট পাওয়া ক্রিস্টোফার ক্রামারের পরিবর্তে মাঠে নামেন আন্দ্রে শুরলা। ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনালেও প্রথমার্ধে কোন গোল হয়নি। তার আগে সহজ সুযোগ বাইরে বল পাঠিয়ে নষ্ট করেন হিগুয়েইন। কুড়িতম বিশ্বকাপের চূড়ান্ত লড়াই- স্বপ্নের ফাইনাল। একদিকে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। আর অন্য দিকে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দুটি দল আরও দু’বার শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল। ১৯৮৬তে প্রথম দেখায় জয়ী হয় ম্যারডোনার আর্জেন্টিনা। চার বছর পর জয়ী হয় জার্মানি। ২৪ বছর পর এই দুটি দল আবার পরস্পরের মুখোমুখি ফাইনালে। জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যানজেলা মারকেল সুদূর ইউরোপ থেকে খেলা দেখতে চলে এলেও অসুস্থতার জন্য পাশের দেশ থেকে আসতে পারেন নি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফার্নাান্দেজ। টানা তিনবারের চেষ্টায় ফাইনালে উঠেছে জার্মানি। দুটি দলই তাদের সেমিফাইনালের দল ঠিক রেখে মাঠে নেমেছে। সেমিফাইনালে জার্মানি ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে হারায় আর আর্জেন্টিনা টাইব্রেকারে হারায় নেদারল্যান্ডসকে। আর্জেন্টিনা ৪-৪-২ আর জার্মানি ৪-৫-১ পদ্ধতিতে দল সাজিয়েছ্।ে মেসি আজ ওপরে উঠে খেলবেন। আজেৃন্টিনা তাদের চিরায়ত আকাশি-সাদা জার্সির বদলে নীল জার্সি পড়ে খেলতে নামে। জার্মানদের জার্সি সাদা হওয়ায় অনেকটা জার্সি বদল করতে হয়।
প্রায় ৭৫ হাজার দর্শক মাঠে খেলা দেখছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই বড় পর্দায় কোটি কোটি দর্শক খেলাটি উপভোগ করেন। আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্স ও জার্মানির বার্লিন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়ে যায় সকাল থেকেই। আর্জেন্টিনা থেকে প্রায় ১০০০০০ দর্শক ব্রাজিলে এসেছেন বিশ্বকাপ উপভোগ করতে। এদের অনেরকেই ১০০০০ ডলার পর্যন্ত খরচ করেছেন বিমান ভাড়া ও হোটেলে থাকা খাওয়ার জন্য। অনেকে ২০০০ মাইল পাড়ি দিয়েছেন সড়ক পথেই।
আর্জেন্টিনা দল: রোমেরো, জাবালেতা, দেমিচেলিস, গ্যারাই, রোহো, বিলিয়া, মাসচেরানো, পেরেজ, হিগুয়েইন, মেসি, লাভেজ্জি।
জার্মানি দল: নয়্যার, লাম, বোয়াটেং, হামলস, হাওয়েডস, খেদিরা, শোয়োনেস্টাইগার, মুলার, ক্রুস, ওজিল ও ক্লোসা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ