• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন |

টাঙ্গাইলের শত বছরের পতিতালয় উচ্ছেদ

Tanggailটাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলে অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির আন্দোলনের মুখে প্রায় শত বছরের পুরনো কান্দাপাড়া পতিতাপল্লীর সাড়ে ৮শ’ যৌন কর্মী একরাতেই তাদের আবাসন ছেড়ে চলে গেছে। এ কারণে যৌনপল্লী এলাকা এখন জনমানব শূন্য হয়ে পড়ে রয়েছে। এ ঘটনার কোন অভিযোগ যৌনকর্মী বা কোন সংগঠন প্রশাসনের কাছে করেনি বলে জানা গেছে।
এদিকে পতিতা পল্লীর ঘরবাড়ি ভাঙ্গার কাজ শুরু করে দিয়েছে ৫৬ জন বাড়ির মালিক ও সরর্দানীরা। সরর্দানী ও পতিতা মিলে প্রায় ৮শ’ পতিতা এখানে যৌন পেশায় নিয়োজিত ছিল। প্রায় শত বছর আগে লৌহজং নদীর তীরবর্তী কান্দাপাড়া নামক স্থানে এই পতিতা পল্লী গড়ে উঠেছিল।
গত ৬ জুলাই টাঙ্গাইল অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে একটি সংগঠন টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে পতিতালয় উচ্ছেদের দাবিতে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়রের কাছে স্বারকলিপি দেয়। পতিতালয় উচ্ছেদ, অশ্লীলতা বন্ধকরণ এবং মাদকের মরণ ছোবল থেকে যুবসমাজকে রক্ষায় কুরআন তালিমের ব্যবস্থা করে রমজানের পবিত্রতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ  ও স্বারকলিপি প্রদান করে অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি। টাঙ্গাইল অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে টাঙ্গাইল পৌরভবনে গিয়ে সমাবেশ করে। পরে মেয়র বরাবর একটি স্মারক লিপি প্রদান করেন। স্মারক লিপিতে তারা  পতিতালয় উচ্ছেদ, অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা বন্ধকরন এবং মাদকের মরন ছোবল থেকে যুবসমাজকে রক্ষায় কুরআন তালিমের ব্যবস্থা করে রমজানের পবিত্রতা নিশ্চিত করার দাবী জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির সাধারন সম্পাদক আলহাজ মাওলানা আব্দুল জলিল, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম শামসুজ্জামান খান ও পৌর মেয়র সহীদুর রহমান খান মুক্তি প্রমুখ। পরবর্তীতে ১১ জুলাই কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ও বেবিষ্ট্যান্ড মসজিদে পতিতালয় উচ্ছেদ বিষয়ে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা কমিটির নেতৃবৃন্দ আরো একটি সভা করে পতিতা পল্লী উচ্ছেদের দাবি জানান। স্বেচ্ছায় চলে না গেলে তৌহিদী জনতা তাদের উচ্ছেদ করবে বলে হুমকী দেয়। এই সমাবেশগুলো থেকেই পতিতা বৃত্তি ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক পথে চলে আসার আহবান জানানো হয়। এরপর ১২ জুলাই রাতে যৌনকর্মীরা তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা ছেড়ে চলে যায়।
যৌনপল্লীর বাড়িওয়ালী হেলেনা বেগম জানান, তিন দিন আগে আমাদেরকে মৌখিকভাবে জানানো হয় পতিতা ব্যবসা বন্ধ করে এখানে অন্য ব্যবসা করতে হবে। আমার বাড়িতে ২৪টি ঘর ছিল। এখন আমি নিজ খরচে ভেঙ্গে চলে যাচ্ছি। ভাঙ্গার নিদের্শ কে দিয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। পতিতা পল্লীর সরর্দানী মিনা, আলেয়া, চান মিয়া, মান্নান. হালিম বাড়িওয়ালাসহ অনেকেই জানান, কোন প্রকার নোটিশ ছাড়া শুধু ভয় ও আতংকের চাপের মুখেই আমাদের এই ব্যবসা ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে। কারা ভয় দেখিয়েছে এই প্রশ্নের কোন সদত্তোর মেলেনি।
পৌরসভার মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি সাংবাদিকদের জানান, কান্দাপাড়ার পতিতা পল্লীর যৌনকর্মীরা চলে যাচ্ছে এ বিষয়ে আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। এখানে বাইরের লোক বাসাবাড়ি করে পতিতাবৃত্তি করছে। তা হতে দেয়া যায় না। যৌনপল্লীরা চলে যাওয়ায় শহরবাসী খুশি হয়েছে। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন জানান, পতিতা পল্লী থেকে পতিতারা চলে যাচ্ছে এই খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট লাল হোসেনে নেতৃত্বে একটি টিম টাঙ্গাইল পতিতালয় পরিদর্শনে গেলে কাউকে না পেয়ে তারা চলে আসে। তবে এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর জানান, যৌনকর্মীরা স্বেচ্ছায় চলে গেছে শুনেছি। তারা ভয়ে বা আতংকে চলে গেছে এমন কোন অভিযোগ যৌনকর্মী বা কোন সংগঠন আমাদের কাছে করেনি। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পতিতাপল্লী এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ