• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন |

অপহরণের ২২দিনেও উদ্ধার হয়নি সাম্মি

Opohoronসিসিনিউজ: অপহরণের ২২দিনেও উদ্ধার হয়নি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী সাম্মি আক্তার(১৩)। অপহরণের ঘটনায় জড়িত ধনঞ্জয় রায়(৩৮) নামে একজনকে আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
অপহৃত সাম্মি কিশোরগঞ্জ উপজেলার রণচন্ডি ইউনিয়নের দক্ষিণ সরকারপাড়া গ্রামের লুৎফর রহমানের মেয়ে এবং খামার গাড়াগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী।
অপহৃতের পারিবারিক সুত্র জানায়, গত ২৩জুন সকালে নিজ বাড়ি থেকে রণচন্ডি ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামে ফুফু আল বেদা বেগমের বাড়িতে বেড়াতে যায় সাম্মি। বিকেলে ফুফাতো বোন মলিনা আক্তারকে সাথে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মোটর সাইকেল যোগে আসা উত্তর পাড়া গ্রামের আবদার রহমানের ছেলে স্থানীয় বসুনিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মিজানুর রহমান ও তার বন্ধু আকবর আলীর ছেলে জামিয়ার রহমান এবং বড়ভিটা ইউনিয়নের মেলাবর গ্রামের দেবেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে ধনঞ্জয় রায় অপহরণ করে নিয়ে যায়।
সাম্মির সাথে থাকা মলিনা আক্তার বলেন, মামার বাড়িতে(সাম্মির বাবা) যাওয়ার সময় হঠাৎ করে আমাদের বাড়ি অতিক্রম করে যাওয়ার সময় প্রধান সড়ক সংলগ্ন এলাকায় আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে রেখে সাম্মিকে নিয়ে যায় তারা। বিষয়টি পরে পরিবারের কাছে জানানো হলে অনেক খোঁজাখুজি করেও পাওয়া যায় নি তাকে।
সেদিনই সাম্মির বাবা লুৎফর রহমান বাদী হয়ে তিনজনকে আসামী করে কিশোরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। প্রাথমিক ভাবে তদন্ত শেষে গত ৮জুলাই মামলাটি নথিভুক্ত করে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ। (মামলা নং ০৪/১৪)।
সাম্মির বাবা লুৎফর রহমান অভিযোগ করেন, মামলা করার পর থেকে আসামীরা বিভিন্ন ভাবে হুমকী দিচ্ছেন আমার পরিবারের লোকজনদের। এমনকি মেরে ফেলারও হুমকী দিয়েছে আসামীরা।
সোমবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের রনচন্ডি ইউনিয়নের সরকার পাড়া গিয়ে অপহৃতের মা রাশেদা বেগমের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আসামীরা মোবাইল ফোনে হুমকী দিয়ে জানিয়েছে মেয়েকে ঢাকায় রাখা হয়েছে। তার বিয়ে হয়ে গেছে সাহাদুল নামে একজনের সাথে। আবেগ আপ্লুত মা বলতে বলতে মুর্ছা খাচ্ছেন বার বার। তিনি মেয়েকে উদ্ধারে প্রশাসনসহ সকলের সহযোগীতা চেয়েছেন।
এদিকে অপহরণের সাথে জড়িত মিজানুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া না গেলেও তার বড় ভাই মোজাহারুল ইসলাম জানান, অপহরণের ঘটনায় তার ভাইয়ের সম্পৃক্ততা নেই। ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করছে মেয়ে পক্ষ্য। মোজাহারুল জানান, মেয়েটির সাথে সাহাদুল ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে শুনেছেন তিনি।
যোগাযোগ করা হলে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শাহ আলম বলেন, অপহৃতের বাবার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৮জুলাই থানায় অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। তিনজন আসামীর মধ্যে গত শুক্রবার ধনঞ্জয় রায় নামে এক আসামীকে আটক করে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে শনিবার। ওসি জানান, পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করার পাশাপাশি অপহৃত মেয়েটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ্য থেকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ