• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৭ অপরাহ্ন |

জলাবদ্ধতায় ভাসছে সৈয়দপুর

Captureমোঃ শমসের উদ্দিন (মিস্টার): মাত্র ২০-৩০ মিনিটের বৃষ্টির পানিতে ডুবছে সৈয়দপুরের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের লোকজন। রমজান একটি অতি পবিত্র মাস। পবিত্রতা রক্ষার্থে ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ সকল ধর্মের লোকজন চেষ্টার ত্র“টি রাখেন না। সকলেই এই পবিত্রতায় মনোনিবেশ হওয়ার জন্য নিজের শরীরসহ বাসা-বাড়ি, দোকানপাট সুসজ্জিত করার লক্ষ্যে নানান ধরণের পরিকল্পনা হাতে নিয়ে থাকেন। কিন্তু প্রকৃতির বিধান বলেও একটা নিয়ম আছে। যা প্রতিরোধ করা মানুষের একার পক্ষ্যে সম্ভব নয়। এর জন্য চাই সবার সম্মিলিত হস্তক্ষেপ। সৈয়দপুর শহর একটি রেলওয়ে অধ্যুষিত শহর। রেলওয়ের উন্নয়ন রক্ষার্থে জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে দূরীকরণের লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকার এ শহরের বিভিন্ন জায়গায় প্রয়োজনানুসারে পুকুর, ডোবা, ড্রেন ইত্যাদি সহ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। কিন্তু দূর্ভাগ্যক্রমে শহরে বাসস্থানের জায়গা সংকটের কারনে উক্ত নিষ্কাশনের ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে তা ভরাটের মাধ্যমে বাসা বাড়ি ও বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়্ যা শহরবাসীর জন্য দূর্ভোগের কারণ হয়ে দাড়ায়। স্থানীয় প্রভাবশালী ও অর্থশালী লোকজনেরা তার সিংহভাগই ফায়েদা লুটেছেন। এবং এখনও সেই প্রক্রিয়া বিদ্যমান রয়েছে যা আমাদের চোখের সামনে ঘটছে। এর বিরুদ্ধে অনেক কিছু করার অদম্য সাহস মনের মধ্যে থাকা সত্বেও সাহস জোগাতে পারেনি অনেকেই।
মাননীয় হুইপ ও সংসদ সদস্য জনাব শওকত চৌধুরী স্থায়ীভাবে এই জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ১৩,১৪ ও ১৫ নং ওয়ার্ডে দলবল নির্বিশেষে জনাব মোখছেদুল মোমিন, আশরাফুল হক বাবু, মোস্তফা কামাল অনেকেরই জোড়ালো আওয়াজে সাড়া দিয়ে নব নির্বাচিত মাননীয় উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব জাওয়াদুল হক সরকারকে নিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য বহুমূখী ক্যানেল নির্মাণ প্রকল্পের জন কমিটি গঠন পূর্বক দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য অর্থ বরাদ্দসহ কাজ শুরু করেন। কিন্তু হঠাৎ কি হল শুনলাম কাজ বন্ধ। এলাকাবাসীর স্বপ্নপূরণে আবার কিসের বাধা  তা জানা গেল না। কয়েক সপ্তাহ পূর্বে স্থানীয় একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় সৈয়দপুরের পৌরসভায় স্টান্ডে দেখা গেল একটি টেন্ডার নোটিশ। উক্ত নোটিশে শহরের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে একাধিক রাস্তার পূণঃ নির্মাণ ও মেরামতের জন্য টেন্ডারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে ১৪ নং ওয়ার্ডের মরহুম শামসুল হক রোড ও মসজিদ বায়তুস সালাম রোডসহ ১৩, ১৪ ওয়ার্ডের একাধিক রাস্তার মেরামতের কাজ উল্লেখ পূর্বক সম্মানিত মেয়র সাহেব প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দসহ টেন্ডারের নোটিশ পত্রিকায় প্রকাশ করেন। পত্রিকায় টেন্ডারের নোটিশ দেখে বিশেষ করে স্থানীয় নামাজিরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে মেয়র সাহেবের জন্য দোয়া করেন। তারা হয়ত জানেন না রাজনৈতিক ব্যাপার স্যাপার। দিন যায় আর এলাকাবাসীর দূর্ভোগও বাড়ে। বাঁশবাড়ী এলাকায় প্রবেশ করলেই নিজের পায়ের জুতা হাতে ও পরিহিত প্যান্ট হাটু পর্যন্ত মুড়তে হয়। তারপরও এ প্রক্রিয়ায় জমে থাকা পানি থেকে রক্ষা পেলেও রেহাই নেই কাদা থেকে। প্যান্ট, পায়জামা, লুঙ্গি যাই থাকুক তা পরিবর্তন বা ধোয়া প্রধান শর্ত।
জলাবদ্ধাতার স্বীকার এলাকাবাসীর এই দূর্ভোগের আদৌ কি সমাধান হবে? জনপ্রতিনিধিদের মাথায় কি তাদের এই সমস্যা সমাধানের চিন্তা এখনও বিদ্যমান আছে?
এই সকল নান প্রশ্ন সমুহ এখন এলাকার প্রত্যেকটি মানুষের মুখে মুখে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ