ঢাকা: ফিক্সড ফোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান পিপলস টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস লিমিটেডের লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। ছয় মাসের মধ্যে সরকারের পাওনা পরিশোধসাপেক্ষে লাইসেন্স ফিরে পাবে প্রতিষ্ঠানটি। বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, বার্ষিক লাইসেন্স ফি, রাজস্ব ভাগাভাগির অংশ ও তরঙ্গ বরাদ্দ ফি হিসেবে পিপলসটেলের কাছে কমিশনের পাওনা ১ কোটি ৮৪ লাখ ৪৬ হাজার ৭৭৬ টাকা। এ অর্থের ২৫ শতাংশ ১৫ দিনের মধ্যে ও বাকি অর্থ ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে নির্দেশনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ২৫ শতাংশ অর্থ প্রদান করা হলে পিপলসটেলের ব্যাংক গ্যারান্টির বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাও প্রত্যাহার করবে কমিশন।
লাইসেন্সের শর্তানুযায়ী, প্রতি বছর ১৩ হাজার ও পাঁচ বছরে ৬৫ হাজার নতুন গ্রাহক যুক্ত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে পিএসটিএন অপারেটরদের। এ শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক গ্যারান্টি থেকে নির্ধারিত হারে অর্থ কেটে নেয়ার বিধান রয়েছে। শর্ত মেনেই লাইসেন্স নিতে ৩০ কোটি টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি দেয় পিপলসটেল। কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আগে তাদের গ্রাহক ছিল ১ লাখ ৬১ হাজার ৬৩০ জন। তবে শর্ত পূরণ করলেও প্রতিষ্ঠানটিকে এখনো ব্যাংক গ্যারান্টি ফেরত দেয়নি কমিশন।
এদিকে ব্যাংক গ্যারান্টি ফেরত দেয়ার বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আবেদন করেছে পিপলসটেল। কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না বলেও আবেদনপত্রে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যাংক গ্যারান্টি ফেরত দেয়া হলে কমিশনের পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে জানায় তারা।
২০১০ সালের মার্চে অবৈধ ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল (ভিওআইপি) ব্যবসার অভিযোগে পাঁচ পিএসটিএন অপারেটরের সেবা বন্ধ করে দেয় বিটিআরসি, যার মধ্যে পিপলসটেলও ছিল। অন্য চার প্রতিষ্ঠান হচ্ছে— র্যাংকসটেল, ওয়ার্ল্ডটেল, ঢাকা ফোন ও ন্যাশনাল ফোন। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শর্তসাপেক্ষে লাইসেন্স ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। এরই মধ্যে আবারো সেবা চালু করেছে র্যাংকসটেল এবং ওয়ার্ল্ডটেল।
এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারের পাওনা অর্থ পরিশোধসাপেক্ষে বন্ধ পিএসটিএনগুলোর সেবা চালুর অনুমতি দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে একাধিক প্রতিষ্ঠান পুনরায় সেবাদান শুরু করেছে।
সেলফোন সেবার কারণে ফিক্সড ফোনের ব্যবহার কমে এলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনো জনপ্রিয় পিএসটিএন অপারেটরদের সেবা। মূলত কম খরচে ভয়েস কল করার সুবিধা ও ডাটা কানেকটিভিটি সেবার মাধ্যমে এ জনপ্রিয়তা টিকিয়ে রেখেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এর পাশাপাশি পিএসটিএনের মাধ্যমে জনসাধারণের ফোন করার সুবিধা (পিসিও) দেয়া হয়ে থাকে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোয় ফিক্সড ফোন সেবার গ্রাহক ঘনত্ব ১০ শতাংশের বেশি।
দেশে ২০০৪ সালে ফিক্সড ফোন সেবায় বেসরকারি খাতকে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে দেশের একমাত্র ফিক্সড ফোন অপারেটর ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ
টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। বর্তমানে পিএসটিএন লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১১। এ খাতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
বিটিআরসি প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশে ফিক্সড ফোন সেবার গ্রাহক রয়েছে ১০ লাখ ৭২ হাজার। এর মধ্যে বিটিসিএলের গ্রাহক ৮ লাখ ৪৫ হাজার। বেসরকারি পিএসটিএনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক রয়েছে র্যাংকসটেলের। তাদের গ্রাহক সংখ্যা ২ লাখ ১৮ হাজার।