সিসি নিউজ: ঈদের পর যুদ্ধ নয়, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ২০ দলীয় জোট নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বলেছেন, আমি যুদ্ধ ঘোষণার কথা বলিনি। গণতন্ত্র, দেশের মানুষের নিরাপত্তা, ন্যায্য অধিকার ও বাক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার দাবিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। এর জন্য সবাইকে সব কিছু ভুলে জাতীয় ঐক্য গড়ার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যৌথভাবে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। কারও নিরাপত্তা নেই। দেশে এখন চরম দুঃসময় চলছে। অবৈধ সরকার দুর্নীতি ছাড়া মানুষের উন্নয়নে কিছুই করছে না। তিনি বলেন, জোর করে ক্ষমতা দখলকারীদের অত্যাচারে দেশের মানুষ আজ অতিষ্ঠ। জানমালের কোন নিরাপত্তা নেই। দিন দিন দারিদ্র্যতা ও বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। নির্বাচিত সরকার না থাকায় দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। যুবকরা লেখাপড়া শেষেও চাকরি পাচ্ছে না। অথচ সরকার দলীয় অযোগ্য লোকদের চাকরি দিচ্ছে। এ অবস্থার নিরসন করতে হবে। খালেদা জিয়া বলেন, পুরো ঢাকা শহরই নোংরা হয়ে আছে। এগুলো পরিষ্কার করা কেউ নেই। দেশের মহাসড়কগুলোর চরম দুরবস্থা। সরকারের লোকজন লুটপাটে ব্যস্ত। যেখানে টাকা সেখানে তারা। খালেদা জিয়া বলেন, বিদেশীরা বলছেন- ভোটারবিহীন গত ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। কথিত ওই নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকারকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। এখন আমরা জনগণের সেই ভোটাধিকার এবং শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছি। এর জন্য প্রয়োজন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সরকারি দল ছাড়া আজ দেশে কেউ ভাল নেই। সত্য কথা বললে জেলে যেতে হয়। অন্যথায় মামলা দিয়ে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এর বিরুদ্ধে সবাইকে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে হবে। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রো-ভিসি প্রফেসর আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, দৈনিক নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, প্রেস ক্ল্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমীন গাজী, মহাসচিব এমএ আজিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে গতকালের জাতীয় প্রেস ক্লাবের ইফতার মাহফিলের মধ্য দিয়েই শেষ হলো ১৮ দিনব্যাপী খালেদা জিয়ার ইফতার পার্টিতে অংশ নেয়া। আগামীকাল পবিত্র ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।