• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৪ অপরাহ্ন |

চতুস্পদ মানব

article-2698298-1FCB33A900000578-997_634x464সিসি ডেস্ক: বিজ্ঞানীরা দাবি করেন বর্তমান মানুষ অনেক বিবর্তনের ভেতর দিয়ে এসেছে। যুগ যুগ ধরে ধীর গতিতে এই বিবর্তন ঘটেছে। কখনও বলা হচ্ছে বর্তমান মানুষ মাছের বংশধর, আবার বলা হচ্ছে শিম্পাঞ্জি থেকে মানুষের সৃষ্টি। আজও মানুষের বিবর্তন নিয়ে নানান গবেষণা হচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। তবে সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের গবেষনার খোরাক জুগিয়েছে তুরস্কের এক পরিবার। এই পরিবারের সকল সদস্যই চার হাত পায়ে চলাফেরা করে।

দক্ষিণ তুরস্কের হাতাই প্রদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রামে উলাস নামের এই পরিবারের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। একদল বিজ্ঞানীদের দাবি এই পরিবারটি মানুষের ‘উল্টো বিবর্তন’র উদাহরন।

উলাস পরিবারটি মূলত পাঁচ ভাই বোনের। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৪ এর মধ্যে। প্রথমত ২০০৫ সালে এই পরিবারটি সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা জানতে পারে। এরপর থেকেই বিজ্ঞানীরা এই পরিবারটি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা শুরু করে। গবেষণা পরবর্তীতে বিজ্ঞানীদের দাবি এই পরিবারটি উল্টো বিবর্তনের উদাহরন। শিম্পাঞ্জি বা হনুমান জাতীয় প্রানী থেকে মানুষের উদ্ভব এই তত্ত্বেও উপর ভিত্তি করেই বিজ্ঞানীরা এই দাবি করছেন।

চতুস্পদী ভাই বোনেরা সব সময়ই চার হাত পায়ে করে চলাফেরা করে। কিছু সময়ের জন্য তারা সোজা হয়ে দাড়াতে পারলেও বেশিক্ষণ ওই অবস্থায় থাকা তাদের পক্ষে বেশিক্ষন সম্ভব হয় না। এর আগে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছিলেন যে, উলাস পরিবারের ক্ষেত্রে বির্বতন ঠিক মানুষের বিবর্তিত হয়ে বর্তমান অবস্থায় আসার আগের অবস্থা। এই অবস্থায় শরীরের বিভিন্ন অংশে শক্তি কম থাকে, তবে হাতের কব্জি এবং গোড়ালিতে জোর বেশি থাকে। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন উলাস পরিবার ভিন্নধর্মী কোনো রোগে আক্রান্ত, যা এখনও আবিস্কৃত হয়নি।

এই অবস্থায় তাদের কোনো সমস্যা হয় কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে উলাস পরিবারটি জানায়, তারা এই অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন। কারণ তারা জন্ম থেকেই এরকম।

টেক্সাস ইউনিভার্সিটির মূল গবেষক লিজা সাপিরো জানান, ‘বিশ্বে চতুস্পদী মানব বিষয়ক অনকে লেখা এবং গবেষণা হয়েছে। তবে যতগুলো গবেষণাই হয়েছে তাতে সাবজেক্ট অনুপস্থিত ছিল। এবার হয়তো উলাস পরিবারের উপস্থিতিতে প্রাইমেটদের সম্পর্কে জানা যাবে।’

তবে বিজ্ঞানীদের দাবিকৃত ‘উল্টো বিবর্তন’ বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়েছেন তুরস্কের গবেষক উনার টান। তার মতে, এই পরিবারটি হাটা সংক্রান্ত এক প্রকার রোগে আক্রান্ত। কারণ তাদের ভাষা এবং মস্তিস্কের গড়ন আর দশজন স্বাভাবিক মানুষের মতোই। তাদের চিন্তা চেতনাও স্বাভাবিক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ