সিসিনিউজ: ভবিষ্যৎ সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার এবং ঢাকা মহানগর কমিটিকে কার্যকর করতে নিজের পছন্দ অনুযায়ী নেতাদের অন্তর্ভুক্তির কথা বলেছিলেন বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাস। দলের হাইকমান্ড থেকে সে অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি পেলেও শেষ পর্যন্ত তাতে কিছুটা ব্যত্যয় ঘটায় নাখোশ হন তিনি।
দলের একটি সূত্র জানায়, এ কারণে সদ্যঘোষিত মহানগর কমিটি নিয়ে অনেকটা গরম থাকলেও সার্বিক দিক বিবেচনা করে আবার নরম হয়েছেন বিএনপির অপরিহার্য এ নেতা। তিনি নতুন আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের নিয়ে কর্মপরিকল্পনা সাজাতে দু-এক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন বলে দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে সদস্যসচিব করে ঢাকা মহানগর বিএনপির ৫২ সদস্যবিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এ কমিটি ঘোষণা করেন যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, সাদেক হোসেন খোকা ও আবদুস সালামকে কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া, নতুন এ কমিটিতে ছয়জন যুগ্ম মহাসচিব রাখা হয়েছে। তারা হলেন যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল আউয়াল মিন্টু, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, কাজী আবুল বাশার, নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু, এম এ কাইয়ুম এবং আবুল সাঈদ খান। এ ছাড়া, বাকিদের কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরের নতুন কমিটি ঘোষণার পরে নাখোশ মির্জা আব্বাস দেখা দেননি সাংবাদিক বা দলীয় নেতা-কর্মীদের। তার কমিটিতে খোকাপন্থিরা ঢুকে পড়ায় এই হতাশা দেখা দেয়। এই কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে নাম আছে সাবেক আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা এবং সদস্যসচিব আবদুস সালামের। এটিকে ভালো চোখে দেখেননি নতুন আহ্বায়ক। সে জন্য শনিবার সারা দিনই বাসা থেকে বের না হলেও দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে এগিয়ে দিতে বিমানবন্দরের যান তিনি।
দলীয় সূত্রটি আরো জানায়, সদ্যঘোষিত কমিটিতে স্থান পাওয়া নিজের পছন্দের বেশ কিছু নেতার সঙ্গে রোববার অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন মির্জা আব্বাস। সেখানে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল আউয়াল মিন্টু, কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বরকত উল্লা বুলু এবং সালাহ উদ্দিন আহমেদের মতো নেতারা। ওই বৈঠকে কমিটি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন মির্জা আব্বাস।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, এ সময় সেখানে উপস্থিত নেতারা দলকে সংগঠিত করতে সংঘবদ্ধভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন। মির্জা আব্বাসও সবকিছু পেছনে ফেলে দলের সদ্যঘোষিত ঢাকা মহানগরের নতুন কমিটি নিয়েই রাজনীতির রেসে চ্যালেঞ্জ নিতে চান। সে জন্য দু-এক দিনের মধ্যে সভা ডেকে আহ্বায়ক হিসেবে তার অবস্থান এবং কর্মপরিকল্পনা জানাবেন তিনি। একই সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটির প্রধান হিসেবে প্রথম গণমাধ্যমের সামনে আসবেন তিনি।
সূত্র বলছে, কমিটিতে খোকাপন্থি হিসেবে যারা আছেন তাদেরও সহযোগিতা চাইবেন মির্জা আব্বাস। অন্তত দলের বৃহত্তর স্বার্থে এবং আন্দোলন সফল করতে ঐক্যবদ্ধ এক ঢাকা মহানগর বিএনপি গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ঢাকা মহানগর বিএনপির সদ্যঘোষিত কমিটিকে ‘ব্যালেন্স কমিটি’ হিসেবে আখ্যা দেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং নতুন কমিটির অন্যতম সদস্য বরকত উল্লা বুলু। রাইজিংবিডিকে তিনি বলেন, ‘এ কমিটিতে অভিজ্ঞ ও দক্ষ লোকের সমন্বয় হয়েছে। খুব শিগগির সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে নতুন কমিটি কাজ শুরু করবে।’
তিনি বলেন, আগের কমিটিতেও অভিজ্ঞ সদস্য ছিলেন। তারাও সংগঠনকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছেন। নতুন কমিটি দলকে সাংগঠনিকভাবে আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ এবং কার্যকর করতে পারবে।
বুলু বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বচনের পূর্বাপর ঢাকার আন্দোলন ব্যর্থ না সফল সেটি বিশাল সমীক্ষার বিষয়। কারণ আন্দোলনে সারা বাংলাদেশ অচল হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ঢাকায় পুলিশ-র্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভীতি সঞ্চার করে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করায় মহানগর বিএনপির আন্দোলন ব্যর্থ হয়।
তিনি জানান, পুরোনো কমিটির ব্যর্থতার কারণে নয়, প্রক্রিয়াগতভাবেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হচ্ছে সংগঠনকে আরো শক্তিশালী ও বেগবান করার মাধ্যমে দলকে সংগঠিত করা।