খেলাধুলা ডেস্ক: দু’-একদিনের মধ্যেই বিলাস ভ্রমণে যাচ্ছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা। পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্লাসগোতে কমনওয়েলথ গেমসের নামেই তাদের এই বিদেশ ভ্রমণ। গ্লাসগোর রেস কাটতে না কাটতেই বিলাস ভ্রমণে যাচ্ছেন দাবা ফেডারেশনের কর্মকর্তা। নরওয়ের ট্রমসোতে অনুষ্ঠেয় ৪১তম দাবা অলিম্পিয়াডে পুরুষ ও মহিলা ১০জন দাবাড়ুর সঙ্গে যাচ্ছেন আরও ১৭ জন। গুঞ্জন রয়েছে এর বাইরেও আর চার পাঁচজন নরওয়ের বিমান ধরবেন। ১লা আগস্ট শুরু হবে দাবা অলিম্পিয়াডের এই আসর। ২০১২ সালে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ৪০তম বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াডের ওপেন বিভাগে বাংলাদেশ ভারতকে পেছনে ফেলে ৩৩তম স্থান অর্জন করেছিল।
এদিকে অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) ২৭ লাখ টাকা চাইলেও দাবা ফেডারেশন পেয়েছে মাত্র তিন লাখ টাকা। দাবাড়ুদের সঙ্গে যাওয়া অতিরিক্ত ১৭ জনের মধ্যে কেউ ফেডারেশনের কর্মকর্তা, কেউ ফেডারেশন কর্মকর্তার স্ত্রী আবার কেউ কর্মকর্তার ছেলেমেয়ে। তবে দাবাড়ু ছাড়া সবাই নিজ নিজ খরচায়ই নরওয়ে সফর করছেন বলে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক গাজী সাইফুল তারেক। ১৭ জনের মধ্যে ফিদে কংগ্রেসে অংশ নেবেন দাবা ফেডারেশনের সহ-সভাপতি কেএম শহিদউল্যা এবং কংগ্রেস ডেলিগেট হিসেবে থাকবেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক গাজী সাইফুল ইসলাম। আন্তর্জাতিক বিচারক হিসেবে যাচ্ছেন মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এবং দলনেতা কাম ম্যানেজার হিসেবে সফর সঙ্গী হচ্ছেন মাসুদা বেগম। এর বাইরে যাচ্ছেন ফেডারেশনের যুগ্ন সম্পাদক মোরসালিন আহাম্মেদ, কোষাধ্যক্ষ মীর আহমেদ হোসেন, সদস্য মজিবুর রহমান হাওলাদার, দেলওয়ার হোসেন, বাহার মিয়া, কাজী জাকিরুল মাওলা। এদের নরওয়ে সফর অনেকটা বিলাস ভ্রমণের মতোই। সংবাদ সম্মেলনে গাজী সাইফুল তারেক বলেন, ‘২৭ লাখ টাকা এনএসসি’র কাছে চাইলেও আমাদের খরচ হবে ৩৫ লাখ টাকার মতো।’ তবে বাকি অর্থের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘টাকা কোথা থেকে পেয়েছি এটা এখন বলতে পারবো না। জাতীয় স্বার্থের কারণে এটা এখন বলতে পারছি না। সময় হলে জানাবো।’ পরে হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বাকি অর্থটা আমরা গ্লোবাল চেস থেকে পেয়েছি।’ কত টাকা গ্লোবাল চেস দিয়েছে তা জানাতে অস্বীকার করছেন দাবা ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। দাবা ফেডারেশনের বিপক্ষে এর আগে বহুবার আদম পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এবারও উঠলো সংবাদ সম্মেলনে। উত্তরে সাইফুল তারেক বলেন, ‘আমাদের নতুন কমিটির সময়ে কোন আদম পাচারের ঘটনা ঘটেনি। তবে এখানে দাবাড়ু বাদে সবাই নিজ খরচায় যাচ্ছেন।’ যদিও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন দাবা ফেডারেশনের এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, গ্লোবাল চেস থেকে পাওয়া অর্থেই বিদেশ ভ্রমণ যাচ্ছেন এরা। অথচ গ্লোবাল চেস এই টাকা দিয়েছে দেশের দাবার উন্নয়নে।’ বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াডে এবার বাংলাদেশ থেকে ওপেন বিভাগে অংশ নেবেন গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ, গ্র্যান্ডমাস্টার আবদুল্লাহ আল রাকীব, গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান, গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব ও আন্তর্জাতিক মাস্টার মিনহাজউদ্দিন আহমেদ সাগর। মহিলা দাবাড়ুদের মধ্যে অংশ নেবেন আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার শামীমা আক্তার লিজা, মহিলা ফিদে মাস্টার নাজরানা খান ইভা, আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদ, মহিলা ফিদে মাস্টার জাকিয়া সুলতানা ও মহিলা ফিদে মাস্টার শিরিন। এদের মধ্যে গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান স্পেনের প্রতিযোগিতা শেষে এবং আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার শামীমা আক্তার লিজা লিসবন হতে সরাসরি নরওয়ের ট্রমসোতে যাবেন। বাকিরা ৩০শে জুলাই ভোরে কাতার এয়ারলাইন্সযোগে ঢাকা ছাড়বেন।