সিসি ডেস্ক : দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে লালমনিরহাট এলজিইডি দফতর। বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও সংস্কার কাজের নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী খলিলুর রহমান। কোথাও সামান্য কাজ দেখিয়ে পুরো টাকা লুট, কোথাও ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজস করে নির্মানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করিয়ে মোটা অংকের কমিশন গ্রহণ আবার কোথাও কোথাও সংস্কার কাজের নামে সরকারের বরাদ্দকৃত টাকা লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে।
লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী খলিলুর রহমান ও সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম মন্ডল ও সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহিমের যোগসাজসে সরকারি অর্থ লুটপাটসহ ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, এ তিন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া হিসেব তৈরি, ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজসে নির্মানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করিয়ে অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, লালমনিরহাট জেলা সদরসহ পাঁচটি উপজেলায় এলজিইডির তত্ত্বাবধানে শত কোটি টাকার কাজ চলছে। এসব উন্নয়নমূলক কাজে সরকারের কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে।
সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের আমবাড়ী ভায়া সিন্দুরমতি হয়ে পঞ্চগ্রাম পর্যন্ত পনেরো কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে কাজ পায় মেসার্স গোলাম রব্বানী নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এ কাজে ব্যাপক দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। টেন্ডারের শর্তানুযায়ী গত জুনে কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও কাজ শেষ না করেই বিলের সমুদয় ২০ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে। কোনো টেন্ডার ছাড়াই এলজিইডি ভবন চত্বরে বড় বড় গাছ বিক্রি করে সে টাকা পকেটস্থ করা হয়েছে।
এলজিইডির রোলার মেশিন বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছে ভাড়া দিয়ে সেই ভাড়ার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী নিজেই তা আত্মসাৎ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি মেইনটেনেন্স এর ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৮টি প্রকল্পের কাজ গত ৩০ জুন সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর বাড়ি যাওয়ার সাড়ে ৩ কিলোমিটার রাস্তা, ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ভাটিবাড়ী- মেগারাম ৪ কিলোমিটার রাস্তাসহ গোটা জেলায় মোট ২৮টি প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় লোকজন জানান, ওই সব রাস্তা সংস্কারের কিছুদিন যেতে ননা যেতেই কার্পেটিং উঠে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার সাংবাদিকদের বলেন, এসব কাজ ২৮ শতাংশ মিশন দিয়ে কাজ নেওয়া হয়েছে। এলজিইডি অফিস থেকে বিল উত্তোলন করতে গেলে কর্মকর্তাদের ৫ ভাগ ভ্যাট-আয়করসহ সব মিলিয়ে কাজের ৪৫ শতাংশ চলে যায়। বাকি ৫৫ শতাংশ টাকা দিয়ে কিভাবে সঠিকভাবে কাজ করা সম্ভব। এ কারণে রাস্তার সংস্কার কাজের গুনগত মান একটু হেরফের হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় বরাদ্ধকৃত ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকার প্রায় ৩০ লাখ টাকার কমিশন নিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী খলিলুর রহমান। এভাবে তারা প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ঠিকাদারদের কাছ থেকে।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বার্হী প্রকৌশলী খলিলুর রহমানের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে আপনাদের জন্য সামান্য কিছু ব্যবস্থা করেছি সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। শীর্ষ নিউজ