ঢাকা : সর্বসাধারণের প্রদর্শনের জন্য ক্রিকেট বিশ্বকাপের ট্রফি রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ট্রফিটি এক নজর দেখার জন্য এবং ট্রফির সঙ্গে একটি ছবি তোলার আশায় ক্রিকেট প্রেমীদের ঢল নামে বসুন্ধরা সিটিতে।
শুক্রবার দুপুর থেকে ট্রফি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সময় বাড়ার সঙ্গেই দীর্ঘ হতে থাকে দর্শনার্থীদের লাইন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষদের দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। বহু প্রতিক্ষার পর যারা ট্রফি দেখতে পেরেছেন ও ছবি তোলার সুযোগ পেয়েছেন তাদের উচ্ছ্বাসের সীমা ছিল না।
এইচএসসি ফলপ্রার্থী রায়হান জানান, এর আগে টিভিতে বিশ্বকাপের ট্রফি দেখেছি। তবে এবার বাস্তবে দেখার পর কতটা ভালো লাগছে তা বলে বোঝাতে পারব না। কয়েক ঘণ্টা নয় ট্রফি দেখার জন্য কয়েক ঘণ্টা নয় দিনের পর দিন লাইনে দাঁড়াতে প্রস্তুত।
নিরাপত্তার জন্য শুরু থেকেই পুলিশের পাশাপাশি বিসিবির নিরাপত্তা বাহিনীর অনেক সদস্যও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবুও ট্রফি দেখাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে। আবার অনেকে অভিযোগ করেন ছবি তোলার সুযোগ না দিয়েই তাদের বের করে দেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও ট্রফির ছবি তোলার সুযোগ পাননি, এমন একজন দর্শনার্থী ব্যাংকার আব্দুল আলিম। নিজেকে সাকিব আল হাসানের বিশাল ভক্ত পরিচয় দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ট্রফি দেখতে পেরেছি। তবে, ছবি তুলতে না দিয়েই নিরাপত্তা কর্মীরা বের করে দিচ্ছে সবাইকে।
দুপুরের পরপর জাতীয় দলের তিন ক্রিকেটার তরুণ পেসার তাসকিন আহমেদ, ওপেনার ব্যাটসম্যান শামসুর রহমান শুভ ও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মার্শাল আইয়ুব বসুন্ধরা সিটিতে আসেন। তখন ট্রফি বাদ দিয়ে ক্রিকেটারদের নিয়ে ফটোসেশনে মেতে ওঠেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। পেসার তাসকিন আহমেদকে দেখা গেছে ভক্তদের একের পর এক আবদার মেটাতে। এই সময় ক্রিকেটভক্তদের অটোগ্রাফের দাবিও মেটান ক্রিকেটাররা।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে ট্রফিটি নেয়া হয়। সে সময় গণভবনে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, সাবেক ক্রিকেটার নাইমুর রহমান দুর্জয়সহ আইসিসি ও বিসিবি’র অনেক কর্মকর্তা।
ট্রফি দেখার সময় প্রধানমন্ত্রী ক্রিকেটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের ক্রিকেটারদের মনোযোগ দিয়ে খেলতে হবে। খেলার আগে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।’ এই ট্রফি ঘরে তোলার জন্যই ২০১৫ সালের ১৪ ফ্রেবুয়ারি থেকে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপ মহারণে অংশ নিবে বিশ্বে ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলো।