• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন |

৩০০ আসনে ৯ হাজার এমপি!

parlamentঢাকা: রাজধানীসহ সারাদেশে ভুয়া এমপিদের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে। সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের স্টিকার গাড়িতে লাগিয়ে সচিবালয়সহ বিভিন্ন অফিস-আদালতে তারা বিচরণ করছেন অবাধে। চাকরির তদবিরসহ বিভিন্ন কাজ বাগিয়ে নেয়ার তদবির করে হাতিয়ে নিচ্ছেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। এছাড়া এসব গাড়ি ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও চালিয়ে যাচ্ছেন সদর্পে। আর এ ভুয়া এমপিদের প্রতারণার কাজে সাহায্য করছেন খোদ সংসদ সচিবালয়েরই কিছু অসাধু কর্মচারী। সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে তারা সরবরাহ করছেন সংরক্ষিত এসব স্টিকার। সংসদের কর্তাব্যক্তি স্পিকার এসব বিষয়ে অবগত থাকলেও দায়ীদের চিহ্নিত করতে না পারায় ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। তবে বিব্রতকর এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণে কাজ করছে সংসদ সচিবালয়। ডুপ্লিকেট স্টিকার শনাক্ত করতে মেধাবী কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি দলকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে সংসদ সচিবালয়ের জড়িত কর্মচারীদের শনাক্ত করার কাজও চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সামান্য কিছু টাকা খরচ করলেই এখন পাওয়া যাচ্ছে সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয় লেখা এসব স্টিকার। সংসদ সচিবালয়ের সংঘবদ্ধ একটি চক্র বিক্রি করছে এসব। তবে এর সঙ্গে জড়িত রয়েছেন অনেক মন্ত্রী-এমপির পিএস ও এপিএসরা। তারাই মূলত কর্মচারীদের নিকট থেকে স্টিকার সংগ্রহ করে থাকেন। পরে তাদের পরিচিতদের কাছে এসব স্টিকার তারা সরবরাহ করেন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে। অনেকে এর বিনিময়ে স্থায়ী সুবিধা নেয়ারও চুক্তি করে ফেলেন। এর ফলে প্রতারকরা বিভিন্ন প্রতারণার মাধ্যমে যে টাকা আয় করেন তার একটি বিশেষ অংশ তারাও পেয়ে থাকেন।
সূত্র জানায়, হিসাব অনুযায়ী ৩৫০ এমপি, সংসদ পরিবহন পুলের ৬৩টি ও পরিবহন পুলের প্রায় ১০০টি গাড়ির জন্য মোট ৫১৩টি স্টিকার থাকার কথা। অথচ রাজধানীসহ সারাদেশে রয়েছে অন্তত ৯ হাজার স্টিকারসহ গাড়ি। তবে এর সবই প্রতারকরা ব্যবহার করছেন তা নয়। চলতি সংসদের এমপিদের পাশাপাশি অনেক সাবেক এমপিও এসব স্টিকার ব্যবহার করছেন। এছাড়া এমপিদের ব্যক্তিগত সহকারী, দলীয় নেতা-কর্মী ও আত্মীয়স্বজনের গাড়িতেও ব্যবহার হচ্ছে স্টিকার। এমনকি ভাড়ায় খাটানো গাড়িতেও স্টিকার লাগিয়ে আদায় করা হচ্ছে সুবিধা। গাড়িতে এসব স্টিকার ব্যবহার করে ঘটানো হচ্ছে নানা ধরনের অপরাধ। অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান হচ্ছে হরহামেশা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমপিদের জন্য নির্ধারিত এসব স্টিকার এখন ছড়িয়ে পড়েছে অপরাধীদের হাতে। বিশেষ করে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের মতো গুরুতর অপরাধে ব্যবহার হচ্ছে এসব। রাজধানী ও রাজধানীর বাইরে এসব স্টিকার ব্যবহার হচ্ছে বিশেষ সুবিধা আদায়ে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের স্টিকার রয়েছে এমন গাড়ি দেখলেই পুলিশ সমীহ করে। এ সুযোগে বেশিরভাগ গাড়ি ট্রাফিক আইন অমান্য করে। অনেক সময় উল্টো পথ ধরে গাড়ি চালানো হয়। এছাড়া সেতু ও ফেরি ব্যবহারে টোল দেয়া হয় না। সচিবালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় এসব গাড়ি অনায়াসে প্রবেশ করতে পারে। ক্ষেত্র বিশেষে পার্কিংয়ের বিশেষ সুবিধাও আদায় করা হয়। সম্প্রতি সচিবালয়ে এসব স্টিকার লাগানো গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করে বিশেষ সুবিধা আদায়ের চেষ্টাকালে এক ভুয়া এমপি পুলিশের হাতে ধরাও পড়েছে।
ভুয়া এমপিদের এমন দৌরাত্ম্যে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে সংসদ সচিবালয়। বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে মন্ত্রী এমপিদেরও।
সংসদ সচিবালয়ের উপ-সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা মানবকণ্ঠকে জানান, বেশ কিছু দিন ধরেই ভুয়া এমপিদের প্রতারণার কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু প্রমাণাদি না থাকায় কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। তিনি জানান, দশম জাতীয় সংসদে অনেক নবীন এমপি এসেছেন। তাদের অনেকেই চেনেন না। আর এই সুযোগটিই কাজে লাগাচ্ছে প্রতারকরা। নিজেকে এমপি পরিচয় দিয়ে সুবিধাদি আদায় করে নিতে পারছে সহজেই।
এ বিষয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকার পরও প্রতারকদের ধরা যাচ্ছে না। তবে সংসদ সচিবালয় এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রশিক্ষিত করতে সংসদের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশিক্ষণও দেয়া হচ্ছে। সংসদে এসব গাড়ি প্রবেশ করলেই ধরা পড়বে। তবে সচিবালয়সহ অন্যান্য দফতরে কিংবা বাইরে কেউ এসব স্টিকার ব্যবহার করলে তাদের বিরুদ্ধে সংসদের কিছু করার থাকে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই এদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করবে। সংসদ সচিবালয়ের জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের শনাক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। উৎসঃ   মানব কণ্ঠ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ