প্রযুক্তি ডেস্ক: তাহসিনার ঈদের কেনাকাটা করার জন্য ছোটার সময় নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বেছে বেছে নিজের পছন্দের পোশাক কিনতেন। বানাতেন আরো দু-একটা। এখন সেই সময় কোথায়? রাজধানীর বনানীতে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কাজ করেন তাহসিনা। বাসা, অফিস আর সন্তানের স্কুলের ব্যস্ততার ভেতর শপিংকে সহজ করেছে অনলাইনে কেনাকাটা। তিনি বলেন, দেশের নামী ব্র্যান্ডের পণ্যও এখন পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনে, তাই কষ্ট করে শপিংমল পর্যন্ত ছোটার দরকার পড়ে না।
সময়ের সাথে বদলে যাওয়া এ সময়ে অনলাইনে কেনাকাটা বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এ বছরই ঈদ ঘিরে সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হচ্ছে অনলাইনে। মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেডের করপোরেট কমিউনিকেশন্স ম্যানেজার আশিকুর রহমান বলেন, ঝামেলামুক্তভাবে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনাকাটার জন্য অনলাইন শপিংয়ের বিকল্প নেই। প্রতিদিনকার ব্যস্ততার ফাঁকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস থেকে উৎসবের শপিং সবই এখন অনলাইনেই সম্ভব।
দেশের সবচেয়ে বৃহৎ ও জনপ্রিয় ফ্যাশন হাউজ আড়ং, কে ক্রাফট থেকে শুরু করে একটেসি, আর্টিস্টি, রিচম্যান, সবারই অনলাইনে কেনাকাটার সুযোগ রয়েছে। তাদের নিজস্ব অনলাইনে পণ্যের ছবি ও বর্ণনা আপলোড করা আছে, কেবল পছন্দ হলেই অর্ডার করে কিনে নেয়া। আর সেটি পৌঁছে যাচ্ছে একেবারে ক্রেতার অফিস কিংবা বাসায়।
আড়ংয়ের তামারা আবেদ বলেন, মানুষের ব্যস্ততা দিন দিন বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে ট্রাফিক জ্যাম। তাই অনেকেই এখন বাসা থেকেই কেনাকাটায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। আমরা এ জন্য অনলাইন শপিংটাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে থাকি।
তিনি জানান, অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে দামের কোনো হেরফের হয় না। যেকোনো স্থান থেকেই যেকোনো সময় পছন্দের পণ্যটি কেনা যাচ্ছে। এতে অনেকেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।
এখনো ধারণাটি নতুন হলেও সামনে বেশ জনপ্রিয়তা পাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই বলে মনে করেন ফ্যাশনে নিত্যনতুন বৈচিত্র্য আনা এ ব্যক্তিত্ব। তার মতে, অনলাইনের এ ব্যাপ্তি বড় বড় শহরের বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে। তখন এটাকে ঘিরেই প্রসারিত হবে ব্যবসায় বাণিজ্য।
দেশের পোশাক বিক্রেতা এসব নামীদামি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তারাও ঝুঁকছেন অনলাইনে কেনাবেচার দিকে। উৎসঃ নয়া দিগন্ত