আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজায় চার সপ্তাহের ইসরায়েলি অভিযানে প্রায় ১৯০০ মানুষ নিহত হওয়ার পর মঙ্গলবার থেকে ৭২ ঘণ্টার একটি মানবিক অস্ত্রবিরতি চলছে। এই সময়ের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি সন্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে মিশরের রাজধানী কায়রোতে প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে হামাস ও ইসরায়েল।
মিশরের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও হামাস ৭২ ঘণ্টার এই অস্ত্রবিরতিতে রাজি হয়। অস্ত্রবিরতির পর প্রত্যাহার করা সেনাদের পুরোপুরি না সরিয়ে গাজার বাইরে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে পুনরায় মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লে. কর্নেল পিটার লার্নার।
গাজায় হামাসের নির্মিত সকল সুড়ঙ্গ ধ্বংস করার মিশন সার্থক হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তবে অভিযান সব সময়ই প্রতিরক্ষামূলক ছিল উল্লেখ করে এখনো বিভিন্ন বিষয়ে তাদের শঙ্কা কাটেনি বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মার্ক।
গাজায় সহিংসতা শুরুর পর থেকে বিবদমান পক্ষগুলোর সম্মতিতে এর আগে অস্ত্রবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হলেও তিনবার সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
এবার অস্ত্রবিরতি ঘোষণার পর ইসরায়েল ও হামাসকে নিজেদের সংযত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। কায়রোর আলোচনায় স্থায়ী অস্ত্রবিরতি ও অন্তর্নিহিত বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে উভয় পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিও ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের গাজায় যে অস্ত্রবিরতি শুরু হয়েছে, সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আলোচনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ইসরায়েলে রকেট হামলার জন্য হামাসকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা পূর্ণভাবে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করি। প্রকৃতপক্ষে তারা রকেট এবং টানেলের মাধ্যমে আক্রমণের শিকার হচ্ছিল এবং তাদের হামাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হতো। এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে হামাস জঘন্য কাজ করেছে। তবে হ্যাঁ, এই আত্মরক্ষা করতে গিয়ে যে ভয়ানক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে তার কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে সংকট নিরসনে অংশীদারদের সঙ্গে এই সমস্যা নিরসনে কাজ করছে।’
তথ্যসূত্র : আল জাজিরা ও বিবিসি।