সিসিনিউজ: নীলফামারীর সৈয়দপুরে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগকারীর অভিযোগ পাল্টে দেয়ার ভয়ানক অভিযোগ মিলেছে। এমনি এক ঘটনা ঘটেছে থানায় আশ্রয় প্রার্থী মাহবুব আলমের ক্ষেত্রে। অভিযোগকারী মাহবুব আলমের বাড়ি শহরের নতুন বাবুপাড়া এলাকায়।
অভিযোগকারী মাহবুব আলমের পুত্রবধূ ডলি আকতারের অভিযোগে জানা যায়, পারিবারিক বিবাদে বাবা মাহবুব আলম ছেলে সুফিয়ান আলম রিজনের (২৪) বিরুদ্ধে পরিবারের সদস্যদের উপর মারডাংয়ের অভিযোগে গত ৬ আগস্ট থানায় ফৌজদারী অপরাধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশ অভিযোগকারীর অভিযোগ আমলে না নিয়ে অভিযোগ পাল্টে দিয়ে মাদক আইনে মামলা দায়ের করে। এ মামলায় একইদিন রিজনকে গাঁজার পুড়িয়া বিক্রেতা হিসাবে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত রিজনকে নতুন বাবুপাড়া এলাকার ভাড়া বাড়ি থেকে গ্রেফতার হলেও পুলিশের তৈরী অভিযোগে ওই এলাকায় গাঁজা বেচাকেনায় গ্রেফতার দেখানো হয়। গ্রেফতারের পরে পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করে বিচারও করা হয়। আদালত মাদক আইনে অভিযুক্ত রিজনকে ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেন। অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম ওই রায় ঘোষণা করেন। একই অভিযোগ করেন দন্ডপ্রাপ্ত রিজনের বাবা মাহবুব আলম। তিনি পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ছেলের বিরুদ্ধে থানায় মারপিটের অভিযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ ওই অভিযোগ আমলে না নিয়ে অভিযোগ পাল্টে ছেলেকে মাদক ব্যবসায়ী বানিয়েছে।
এদিকে একই দিন অপর ঘটনায় শহরের হাতীখানা এলাকার অধিবাসি আব্দুল হালিম বখে যাওয়া পুত্র মো. কাশেমের (২৪) বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দেন। কিন্তু পুলিশ অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্ত কাশেমকে গ্রেফতার করে মাদকসেবীর মামলা দায়ের করে। মামলা নং ১১৮/১৪। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালত মাদক আইনে তাকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেন। অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু পুলিশ দন্ডপ্রাপ্ত কাশেমকে মাদকসেবী হিসাবে আখ্যায়িত করলেও বিধি মোতাবেক তার স্বপক্ষে কোন মেডিকেল রিপোর্ট আদালতে দেখায়নি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সিরাজুল ইসলাম জানান, গত বুধবার হাসপাতালে কোন মাদকসেবীকে ভর্তি করা হয়নি।
আনিত অভিযোগ বিষয়ে মুঠোফোনে সৈয়দপুর থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহিদার রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি সংবাদকর্মীকে জানান, অভিযোগ সম্পর্কে মামলার ফাইল না দেখে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
এ ব্যাপারে নীলফামারী জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. তুষার কান্তি রায় জানান, অভিযোগকারীর অভিযোগ পরিবর্তন করা কারও এখতিয়ার নাই। পুলিশ যদি কারও অভিযোগ পরিবর্তন করে তা ন্যায় বিচারের পরিপন্থী।