• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৪ অপরাহ্ন |

শীঘ্রই যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা

Jubo Dolঢাকা : নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে উপযোগী করে গড়ে তুলতে জাতীয়তাবাদী যুবদলকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি।

সূত্র জানায়, বিএনপি নেতারা মনে করেন, নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হলে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে বিতারিত করা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। তাই খুব শীঘ্রই বিএনপি’র আন্দোলন সংগ্রামের ভ্যান গার্ড হিসেবে পরিচিত যুবদলকে সিনিয়র ও জুনিয়র সমন্বয়ে গঠন করা হতে পারে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় সরকার বিরোধী আন্দোলনে এবার ‘ডু অর ডাই ম্যাচ খেলতে’ যাচ্ছে বিএনপি। কাজেই দলকে সাংগঠনিকভাবে যত দ্রুত সম্ভব শক্তিশালী করতেই হবে। কেননা বিগত দিনের আন্দোলনের আগে ছিলো নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি আর এখন যেমন করেই হউক ক্ষমতায় বসে থাকা শাসক দলকে বিদায় করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা। তাছাড়া এবার আন্দোলনের নেতৃত্বে খালেদা জিয়া হলেও মূল পরিকল্পনায় দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান থাকবেন।

জানা যায়, আগামী দিনের আন্দোলনে গতি আনতে ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর বিএনপি’র নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। যাদের কাজ হচ্ছে দুই থেকে তিনি মাসের মধ্যে নগর বিএনপি’র প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট থেকে কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব খুঁজে বের করা এবং আগামী দিনে সরকার পতনের আন্দোলনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগর বিএনপি’কে আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালনায় সহায়তা করতেই খুব শীঘ্রই যুব দলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। ইতোমধ্যে যুব দলের কমিটি চুড়ান্ত করেছেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এখন কেবলমাত্র ঘোষণার অপেক্ষা।

বিএনপি’র একটি নির্ভরশীল সূত্র শীর্ষ নিউজকে জানায়, যুবদলের কমিটিতে সভাপতি পদে থাকতে পারেন বিএনপি’র শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন এবং সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য সমানতালে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সহ ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, সাবেক ছাত্র নেতা কামরুজ্জামান রতন ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নিরব।

এদিকে, সাংগঠনিক পদে ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মামুন হাসান ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীরের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে যুব দলের একটি সূত্র শীর্ষ নিউজকে জানায়, সভাপতি হিসেবে খায়রুল কবির খোকনের নাম চুড়ান্ত। এখন কেবল সাধারণ সম্পাদক নির্ধারণ করতে হিম শিম খাচ্ছে ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ। কেননা দলের একটি বড় অংশ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নিরবকে চাচ্ছে। যদিও সাইফুল আলম নিরবকে নিয়ে নানা অভিযোগের কথা শোনা যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবদলের এক সদস্য শীর্ষ নিউজকে বলেন, যারা কেবল আন্দোলন সংগ্রামেই নয়, জনসম্মুখেও আসতে পারে না তাদেরকে পদে না রাখাই ভালো হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, নিরব ভাইকে সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল রাখা হলে যুবদলের নতুন কমিটি করেও কোনো লাভ হবে না। কাজেই দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এ বিষয়ে একটি ভেবে চিন্তে পদক্ষেপ নেওয়াটা যুক্তিযুক্ত হবে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপি নয়া পল্টন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় অফিসে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে স্বাক্ষাৎ করেন যুবদলের বর্তমান কমিটির বেশ কিছু নেতা-কর্মী।

সরেজমিনে দেখা যায়, যুবদলের বর্তমান কমিটিতে থাকা বেশ কয়েকজন সহ-সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলামকে বলেন, আপনি আমাদের নেতা দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে এই বিষয়টি অবহিত করবেন ‘আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামের কথা বিবেচনা করে বর্তমান কমিটির সদস্যদের যেন নতুন কমিটিতে রাখা হয়। এমনকি বর্তমান কমিটি থেকেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কমিটির ওই নেতারা বলেন, ‘আমরা যুবদলের মধ্য থেকেই সংগঠনের নেতৃত্ব চাই। তবে বাইরে থেকে কাউকে নেতৃত্ব দিলে আমাদের খারাপ লাগবে না। এ দাবি করছি, কারণ এটি আমাদের অধিকার। যুবদলের আপদকালীন সময়ে আমরা ঝুঁকি নিয়ে দলের পাশে থেকেছি।’

তারা জানান, দফতরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদের কাছেও তারা দাবি তুলে ধরেছে। এখন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস এবং গয়েশ্বর চন্দ্রের সঙ্গে দেখা করে তাদের দাবি তুলে ধরবেন বলে জানান।

তারা জানান, যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় বর্তমানে আমরা প্রায় প্রত্যেকেই ১৫ থেকে ২০ মামলা মাথায় নিয়ে ঘুরছি। কাজেই এখন যদি আমাদের নতুন কমিটিতে না রাখা হয় তাহলে আমাদের রাজনীতি করার আর কোনো জায়গা থাকবে না।

একটি সূত্র জানায়, বর্তমান কমিটিকে রেখেই নতুন কমিটি করা হউক বলে যুবদলের অধিকাংশ নেতাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বলেন, দলের অন্য কোথাও স্থান না পাওয়া গেলে তাদের রাজনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। এই মুহূর্তে তাদের সংগঠনে স্থান না পাওয়া আত্মহত্যার শামিল।

জানা যায়, এ সময় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনোযোগ দিয়ে যুবদলের নেতা-কর্মীদের কথা শোনেন এবং তাদেরকে আশ্বস্ত করেন এই বলে, আমি ম্যাডামের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবো। আলোচনা করে দেখবো যুবদলের নতুন কমিটি নিয়ে কি করা যায়।

তবে যুবদলের তৃণমূল কর্মীরা মনে করেন, যুবদলের নেতৃত্বদানে আগামী দিনে এমন একজন নেতা নির্বাচন করতে হবে যাতে করে যুবদল তাদের হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে পারে। তাদের বিশ্বাস দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামী দিনে আন্দোলনে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি আদায়ে ক্ষমতাসীন সরকারকে বিদায় করতে যুবদলের নেতৃত্বে ত্যাগী, যোগ্য ও মেধাবীদের অগ্রাধিকার দিবেন।

উল্লেখ্য, যুবদলের সর্বশেষ কমিটি করা হয়েছিল ২০১০ সালের ১ মার্চ। এ কমিটির সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব।

শীর্ষ নিউজ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ