• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

কুমিল্লা বোর্ডের সেরা দশে চাঁদপুরের দুই প্রতিষ্ঠান

Captureশরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর: বাংলাদেশ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের অধিনে সারাদেশের সবক’টি বিভাগের ২০১৪ শিক্ষাবর্ষের এইচএসসি পরিক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত ফলাফলে কুমিলা বোর্ডের অধীনে অংশগ্রহণকৃত কলেজ সমূহের মধ্যে সেরা ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চাঁদপুর জেলার দুটি প্রতিষ্ঠান স্থান পায়। এর মধ্যে হাজীগঞ্জ মডেল কলেজ ৪র্থ স্থান ও চাঁদপুর আল আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজ ৮ম স্থান লাভ করেছে। আর কারিগরি বোর্ডে হাজীগঞ্জ মডেল কলেজর অবস্থান ৬ষ্ঠ। এছাড়াও জেলায় সেরা দশের মধ্যে প্রথম হাজীগঞ্জ মডেল কলেজ, দ্বিতীয় হয়েছে আল আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজ।
২০১৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় হাজীগঞ্জ মডেল কলেজ থেকে কুমিল্লা বোর্ডের অধিনে ৯৬৫ জন ও কারিগরি বোর্ডের অধিনে ২১৯ জনসহ সর্বমোট ১১৮৪জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে। এর মধ্যে ৪৬৬জন পরিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। পাশ করেছে সর্বমোট ১১৬৬ জন শিক্ষার্থী। পাশের হার- ৯৮.৪৮ ভাগ। কলেজের বিজ্ঞান শাখার মোট পরিক্ষার্থী ৩২২ জন। যার মধ্যে পাশ করেছে ৩২০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯৬, জিপিএ ১২৪ জন। এ শাখায় পাশের হার ৯৯.৩৮ ভাগ। মানবিক শাখার মোট পরিক্ষার্থী ১৬১ জন। পাশ করেছে ১৫৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫ জন, জিপিএ ১১৭জন, এ-(মাইনাস) ১২জন, বি-২জন, সি-১জন। পাশের হার ৯৭.৫১ ভাগ। ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় মোট মোট পরিক্ষার্থী অংশ নেয় ৪৮২ জন। এর মধ্যে পাশ করেছে ৪৭১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪৭ জন, জিপিএ ৩১৫, এ- (মাইনাস) ৭, বি-২ জন। সর্বমোট পাশের হার ৯৭.৭২ ভাগ। বি.এম শাখায় মোট অংশগ্রহনকারী পরিক্ষার্থী ২১৯জন। পাশ করেছে ২১৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৮, জিপিএ ১২০ জন। পাশের হার ৯৯.৫৪ ভাগ।
আল আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজ কুমিলা বোর্ডের অধীনে মোট ৪২৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ৬৪ জন ছাত্র-ছাত্রী জিপিএ-৫ লাভ করেছে। এবং সর্বমোট পাসের সংখ্যা ৩৯৯ জন। পাসের হার ৯৩ ভাগ। অংশগ্রহণকৃত তিনটি গ্র“পের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মানবিক বিভাগে ৯৫ জন পরীার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ ৫ জন, এ ৪২ জন, এ মাইনাস ১৭ জন, বি ৬ জন, সি ৯ জন, মোট পাস ৮০ জন এবং পাসের হার ৮৫ ভাগ। বিজ্ঞান বিভাগে ১৮১ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৩৭ জন জিপিএ-৫, ১০৩ জন এ, ৩১ জন এ মাইনাস, ৪ জন বি, মোট পাস ১৭৩ এবং পাসের হার ৯৬ ভাগ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৫২ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ ২২, এ ৭৬, এ মাইনাস ৩৩, বি ১৫, মোট পাস ১৪৬ এবং পাসের হার ৯৬ ভাগ।
এদিকে চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীায় ৯০৯ জন ছাত্রীর মধ্যে জিপিএ-৫ ৪১ জন, মোট পাস ৬৭১ জন, অকৃতকার্য ২৩৮, পাসের হার ৭৫.৭২ ভাগ। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ১৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯ জন জিপিএ-৫, অকৃতকার্য ৩০, মোট পাস ১৬৮ জন, পাসের হার ৮৪.৮৫ ভাগ। মানবিক বিভাগে ৩৬৯ জন ছাত্রীর মধ্যে জিপিএ-৫ ১৯, অকৃতকার্য ১৪৬, মোট পাস ২২৩, পাসের হার ৬০.৪৩ ভাগ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩৪২ জন ছাত্রীর মধ্যে ১৯ জন জিপিএ-৫, অকৃতকার্য ৬২, মোট পাস ২৮০, পাসের হার ৮১.৮৭ ভাগ।
অন্যদিকে চাঁদপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ৫৬০ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয় ৪০২ জন। মোট জিপিএ-৫ সংখ্যা ৮ জন, মোট পাসের হার ৭১.৭৮ ভাগ। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ১৫২ জন ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে ১১০ জন উত্তীর্ণ হয়, জিপিএ-৫ দুইজন, পাসের হার ৭২.৩৬ ভাগ। মানবিক বিভাগে মোট ১৭৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৮ জন উত্তীর্ণ হয়, জিপিএ-৫ একজন, পাসের হার ৫৫.৩৬ ভাগ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৩১ জন ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ১৯৪ জন, জিপিএ-৫ পাঁচজন, পাসের হার ৮৩.৯৮ ভাগ।
ফলাফলের বিষয়ে অভিমত জানতে চাইলে, আল আমিন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা আশাতীত ফলাফল লাভ করতে পারিনি। আমাদের ল্যমাত্রা আরো ভালো ছিলো। কারণ এর আগে আমাদের কলেজ ৪র্থ ও ৬ষ্ঠ স্থান লাভ করেছে।
অন্যদিকে চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মিহির লাল সাহা বলেন, আমাদের প্রতিক্রিয়া ভালো। আমাদের ছেলেরা অনেক ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। তারা ভবিষ্যতে আরো ভালো করবে এবং সমাজে আলো ছড়াবে, এই প্রত্যাশা করছি।
চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. মাসুদুর রহমান বলেন, আমরা ফলাফলে সন্তুষ্ট, তবে ভবিষ্যতে আরো ভালো ফলাফলে আগ্রহী। মেয়েরা যাতে আরো ভালো ফলাফল অর্জন করে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে আমি সেই প্রত্যাশা করছি।

৮শ’ ৫৯ কোটি টাকার রেমিটেন্স অর্জন
২০১৩-১৪ অর্থ বছরের জানুয়ারি হতে চলতি ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরের জুলাই পর্যন্ত ব্যাংক গুলোতে ৮শ’ ৫৯ কোটি ৪৭লাখ ৯৩হাজার টাকার বৈদেশিক রেমিটেন্স অর্জিত হয়েছে। জেলার প্রবাসীরা তাদের নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে মানি ট্রান্সফার, ইউনিয়ন, ই-ব্যাংকিং, অনলাইন ব্যাংকিং ইত্যাদির মাধ্যমে চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন ব্যাংক শাখাগুলোতে ঐ পরিমাণ অর্থ প্রবাসীরা পাঠিয়েছে। ফলে ব্যাংকিং খাতে, ব্যবসা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ও পারিবারিক ভাবে অর্থনৈতিক তারল্য লক্ষ্য করা গেছে। ঐসব অর্থের মাধ্যমে জেলার ব্যাংকিং খাতের লেনদেন প্রক্রিয়া গত ঈদেও ছিল প্রচন্ড ভিড়। প্রাপ্ত তথ্য মতে, চাঁদপুর জেলার সোনালী ব্যাংকের ২০টি শাখায় জুলাই পর্যন্ত ৪৭ কোটি ১৭লাখ ৯হাজার টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের ২০টি শাখায় জুলাই পর্যন্ত ৪৪১ কোটি ৩০লাখ টাকা, জনতা ব্যাংকের ১৭টি শাখায় জুলাই পর্যন্ত ৩৬৭ কোটি ৮৮লাখ টাকা এবং কৃষি ব্যাংকের ২৭টি শাখায় গত জুলাই পর্যন্ত ৩ কোটি ১২লাখ টাকার বৈদেশিক রেমিটেন্স এসেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ১জন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকিং জগতে আধুনিক প্রযুক্তির ফলে বিশ্বের যে কোনো দেশ থেকে টাকা পাঠানোর সাথে সাথেই গ্রাহকের ব্যাংক একাউন্টে জমা হওয়ার পর পরই গ্রাহকের চাহিদা মাত্র ঐ অর্থ প্রদান করা সম্ভব। সুতরাং এখন আর সেই পুরানো পদ্ধতিতেই ব্যাংকিং খাতের লেনদেন না হওয়ায় গ্রাহক ও প্রবাসীদের মধ্যে অনেকটাই স্বস্তি ফিরে এসেছে।

চরভৈরবি বাজারে ৪৫টি দোকান আগুনে ভষ্মিভুত
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার চরভৈরবি বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ৪৫টি দোকান পুড়ে গেছে। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। মঙ্গলবার দিবগাত রাত আড়ইটার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, চরভৈরবি বাজারের বেড়িবাঁধের পাশে বাজারের একটি দোকানে প্রথম আগুন লাগে। সঙ্গে সঙ্গে চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিস ও লক্ষীপুরের রামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে প্রথমে রামগঞ্জ ও পরে চাঁদপুর ফায়ার  সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বাজারের ৪৫টি দোকান পুড়ে যায়। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার মো. ফরিদুল ইসলাম মনির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সিগারেট কিংবা মশার কয়েলের আগুন থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ