সিসিনিউজ: দ্বাপর যুগের সন্ধিক্ষণে আবির্ভূত সনাতন ধর্মের মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মতিথি আজ। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মথুরায় কংসের কারাগারে শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বাণী দিয়েছেন।
সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায় উপবাস, অর্চনা ও কৃষ্ণনাম কীর্তনসহ বিভিন্ন আচার-উপাচারের মাধ্যমে যথাযোগ্য ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় উদযাপন করছে দিনটি। প্রতি বছরের মতো এবারও জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নানাবিধ কর্মসূচি নিয়েছে।
শনিবার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দিনটি উদযাপনের বিস্তারিত কর্মসূচি জানানো হয়। এ উপলক্ষে রোববার ও ২২ আগস্ট শুক্রবার বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। রোববার সকাল ৮টায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় অনুষ্ঠিত হবে গীতাযজ্ঞ, বিকাল ৩টায় ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হবে। শোভাযাত্রাটি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির-পলাশী বাজার-জগন্নাথ হল-কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-দোয়েল চত্বর-হাইকোর্ট-জাতীয় প্রেসক্লাব-পল্টন-শহীদ নূর হোসেন স্কয়ার-গোলাপ শাহ মাজার-গুলিস্তান মোড়-নবাবপুর রোড-রায় সাহেব বাজার-বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে।
শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের সেবায়েত প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বারাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল উপস্থিত থাকবেন।
রাতে শ্রীকৃষ্ণ পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ২২ আগস্ট বিকাল ৪টায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন। রোববার সরকারি ছুটি ছাড়াও জন্মাষ্টমীতে গণমাধ্যমগুলোতে রয়েছে বিশেষ আয়োজন।
রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সমাজে বিদ্যমান ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে তা জাতীয় অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনে প্রয়োগ করার জন্য দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করে বলেন, শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ও শিক্ষা বাঙালির হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে তার ভক্তদের অনুপ্রাণিত করবে।
বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ দেশে ও দেশের বাইরে বসবাসরত সব ধর্মের মানুষের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেন, হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি, বৈষম্য, অন্যায়-অবিচার দূর করে সমাজকে শান্তিময় করে তুলতে যার যার অবস্থানে থেকে সবাইকে অবদান রাখতে হবে।